জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিশ্বের সব অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কার আনার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর একচ্ছত্র ‘ভেটো ক্ষমতা’ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার দাবি তুলেছেন তিনি।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে সানচেজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখতে নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য। স্থায়ী সদস্যদের ভেটো দেওয়ার অধিকার বাতিল করা দরকার উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোনো দেশই নিজের বিষয়ে নিজে বিচারকের ভূমিকা পালন করতে পারে না; তা সে দেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যত শক্তিশালী বা প্রভাবশালীই হোক না কেন।”

স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক বার্তা দেন যে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে টিকে থাকা নীতিগুলো আজ বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। শান্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং সবার জন্য সমান সুযোগের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে কিছু রাজনৈতিক নেতা ও সরকার ক্রমাগত আক্রমণের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে।

বিশ্বকে আবারও এক ‘অন্ধকার অতীতে’ ফিরিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে উল্লেখ করে সানচেজ বলেন, “কারা এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, তা আলাদা করে নাম ধরে বলার প্রয়োজন নেই। সমগ্র বিশ্ব জানে কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং তারা কীভাবে কাজ করে চলেছে।”

বৈশ্বিক বিভিন্ন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে স্পেনের দৃঢ় ও নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন সানচেজ। তিনি জানান, জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতে মাদ্রিদ সাধ্যমতো সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। উদাহরণ টেনে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে স্পেনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইসরায়েল সরকারের ওপর সরাসরি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে স্পেনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সানচেজ বলেন, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে স্পেন শুরু থেকেই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা জানিয়ে আসছে। এ সময় তিনি সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজায় অব্যাহত ‘গণহত্যা’ চালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ আনেন।

পরিশেষে সানচেজ মন্তব্য করেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরস্পরনির্ভরশীলতার যুগে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার চেয়ে কার্যকর পথ আর হতে পারে না। এই লক্ষ্যে জাতিসংঘের ওপর সাধারণ মানুষের নতুন করে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক এই বিশ্বসংস্থাকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করার জন্য রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।