সুন্দরবনসংলগ্ন গভীর সমুদ্রে ফিশিং বোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পাঁচ দিন ধরে ভাসতে থাকা আটজন জেলেকে জীবিত ও অলৌকিকভাবে নিরাপদে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুন্দরবনের কোকিলমণি এলাকা থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে বিশেষ ও জরুরি উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বেলা ১১টার দিকে আটজন জেলে একটি ফিশিং বোটে করে সুন্দরবনের কোকিলমণি এলাকা থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। সমুদ্রে অবস্থানকালে হঠাৎ বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। ফলে বোটটি ভাসমান অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর সমুদ্রের দিকে ভেসে যেতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে মাঝসমুদ্রে ইঞ্জিন অকেজো থাকায় খাদ্য ও পানীয় সংকটে পড়া জেলেরা চরম অনিশ্চয়তা ও জীবনসংকটে পড়েন।
পরবর্তীকালে ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টার দিকে ভাসতে ভাসতে বোটটি আকস্মিকভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসে। এ সময় বোটে থাকা এক জেলে দ্রত মুঠোফোনে ট্রলারের মালিককে পুরো বিপদের কথা অবহিত করেন। খবর পাওয়া মাত্রই বোটের মালিক কালবিলম্ব না করে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের কাছে জরুরি উদ্ধার সহায়তা চান।
সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই কোস্ট গার্ড স্টেশন কোকিলমণির একটি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল দ্রুত গভীর সমুদ্রে উদ্ধার অভিযানে নামে। সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা বিকল হয়ে ভাসতে থাকা ফিশিং বোটটি খুঁজে পান এবং ভেতরে থাকা আটজন জেলেকে অক্ষত ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
প্রাথমিক সেবা ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া উদ্ধারের পরপরই কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে অসুস্থ ও ক্লান্ত জেলেদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা, স্যালাইন ও জরুরি খাবার সরবরাহ করা হয়। উদ্ধারকৃত আট জেলে এবং তাঁদের উদ্ধার হওয়া ফিশিং বোটটি মালিকপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
এ বিষয়ে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সমুদ্রে বিপদগ্রস্ত জেলেদের জীবন রক্ষা, মানবিক সুরক্ষা প্রদান এবং উদ্ধার অভিযানে কোস্ট গার্ডের এমন তৎপরতা ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।”