ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহায়তার রূপরেখা নির্ধারণে জরুরি সামরিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। তিন দেশের সামরিক প্রধানদের (সেনাপ্রধান/প্রতিরক্ষা প্রধান) অংশগ্রহণে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
ইতোমধ্যে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান নিজেদের মধ্যে পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। তবে ত্রিদেশীয় সামরিক বাহিনীর প্রধানদের এই বৈঠক ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে এবং সৌদি আরবকে কী ধরনের বা কতটুকু সামরিক সহায়তা প্রদান করা হবে— সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ও সম্মিলিত নিরাপত্তা সামরিক যৌথতার এই উদ্যোগটি এসেছে সাম্প্রতিক একটি ঐতিহাসিক চুক্তির ধারাবাহিকতায়। চলতি বছরের গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে বহুল আলোচিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী— স্বাক্ষরকারী তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর যেকোনো সামরিক আক্রমণকে অবশিষ্ট দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করার যৌথ নীতিগত অঙ্গীকার রয়েছে।
রিয়াদে সেনসিটিভ টার্গেটে হামলার দাবি ও প্রতিরোধ এদিকে সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের ভেতর থেকে ছুড়ে মারা অন্তত ছয়টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে হুথি সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি ‘সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু’ এবং ইয়ানবু বন্দরে অবস্থিত সৌদি জাতীয় তেল কোম্পানি ‘আরামকো’র বাণিজ্যিক স্থাপনা লক্ষ্য করে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
হুথিদের এই অব্যাহত উসকানিমূলক তৎপরতার মুখে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হুথি বিদ্রোহীদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের আরও ‘দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা’ করা হবে।