ইতালির সরকারি স্কুলগুলোতে বোরকা ও নেকাব পরার ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার। একই সাথে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমিত রাখার এক বিতর্কিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সভাপতিত্বে আয়োজিত ইতালীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত কঠোর ডিক্রি-আইন অনুমোদন দেওয়া হয়।

ঘোষিত নতুন এই সরকারি বিধিমালা বা পোশাক নীতি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো পর্যন্ত আর্থিক জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। ডিক্রি-আইনটি অনুমোদনের পর তাৎক্ষণিকভাবে দেশে কার্যকর হলেও সংবিধান অনুসারে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দেশটির জাতীয় পার্লামেন্ট থেকে এটিকে চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে।

মেলোনি সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের পর ইতালিজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। দেশের শিক্ষক সংগঠন এবং বিভিন্ন স্কুলের প্রধানেরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষা খাতের অংশীজনদের সাথে পর্যাপ্ত পরামর্শ না করে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সম্পদ বরাদ্দ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে এই নিয়ম বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

অন্যদিকে ইতালির প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এলি শ্লেইন সরকারের এই উদ্যোগকে ‘রাজনৈতিক স্টান্ট’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক ও প্রকৃত সমস্যাগুলো থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে আড়াল করতেই সরকার এই ধরণের বিতর্কিত রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে।”

ইতালির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে দেশটির স্কুলগুলোতে পড়াশোনা করা মোট বিদেশি নাগরিক শিক্ষার্থীর হার ছিল ১১ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে, দেশের যেসব শ্রেণিকক্ষে ৩০ শতাংশের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে, পরিসংখ্যান মতে এমন শ্রেণিকক্ষের হার ছিল মোট ক্লাসের মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।