কানাডিয়ান রকিজের পাহাড়, হ্রদ আর বিস্তীর্ণ প্রান্তর বহুদিন ধরেই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। তবে প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য বলিউডের সিনেমাতেও বারবার জায়গা করে নিয়েছে। হৃতিক রোশন ও প্রীতি জিনতার ‘কোই...মিল গায়া’ থেকে অক্ষয় কুমার–ক্যাটরিনা কাইফের ‘হামকো দিওয়ানা কার গায়ে’—বিভিন্ন সিনেমার দৃশ্যে দেখা গেছে কানাডার আলবার্টার মনোমুগ্ধকর ভূদৃশ্য।
২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া রাকেশ রোশন পরিচালিত ‘কোই...মিল গায়া’র বেশ কিছু দৃশ্য ও গানের শুটিং হয়েছিল কানাডার বিভিন্ন এলাকায়। ছবির শিশু অভিনয়শিল্পী অনুজ পণ্ডিত শর্মা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, সিনেমাটির দল প্রায় এক মাস কানাডায় অবস্থান করেছিল। ‘জাদু’ ও ‘ইন পঞ্ছিয়োঁ কো দেখকার’ গানের দৃশ্যেও কানাডার প্রকৃতি দেখা যায়।
ছবিতে হৃতিকের রোহিত চরিত্র ও ভিনগ্রহের প্রাণী ‘জাদু’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও কানাডায় গিয়ে সিনেমাটির দৃশ্যগুলো নতুন করে দেখলে চোখে পড়ে সেখানকার প্রকৃতির উপস্থিতিও।
‘তুম বিন’ থেকে অক্ষয়–ক্যাটরিনা
কানাডার সঙ্গে বলিউডের সম্পর্ক অবশ্য ‘কোই...মিল গায়া’তেই শেষ নয়। পরিচালক অনুভব সিনহার প্রথম সিনেমা ‘তুম বিন’-এর বড় অংশের শুটিং হয়েছিল ক্যালগারিতে। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির গল্পের সঙ্গেও কানাডার পরিবেশ ও শহরটি সরাসরি যুক্ত ছিল।
এরপর ২০০৬ সালের ‘হামকো দিওয়ানা কার গায়ে’ সিনেমার শুটিং হয় ক্যালগারি, ড্রামহেলার ও এডমন্টনে। অক্ষয় কুমার ও ক্যাটরিনা কাইফ অভিনীত সিনেমাটির কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল কানাডিয়ান রকিজ এলাকাতেও।
২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘এইট বাই টেন তাসভির’-এর শুটিংও হয়েছিল ক্যালগারিতে। নাগেশ কুকুনুর পরিচালিত রহস্যধর্মী এই সিনেমাতেও কানাডার ভূদৃশ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
প্রকৃতিই যেন বিশাল এক চলচ্চিত্রের সেট
ক্যালগারি থেকে ব্যান্ফ হয়ে লেক লুইজের পথে এগোলে চোখে পড়ে পাহাড়, হ্রদ ও বিস্তীর্ণ প্রান্তর। এই ভূদৃশ্য শুধু পর্যটকদের নয়, ভারতীয় সিনেমার নির্মাতাদেরও আকৃষ্ট করেছে।
লেক লুইজের সামনে দাঁড়ালে পেছনে দেখা যায় ভিক্টোরিয়া হিমবাহ ও রকি পর্বতমালা। আলো ও মেঘের পরিবর্তনের সঙ্গে হ্রদের পানির রংও বদলে যায়—কখনো ফিরোজা, কখনো সবুজাভ। হালকা তুষারপাত আর চারপাশের পাহাড়ি পরিবেশ মিলিয়ে জায়গাটি যেন নিজেই একটি বিশাল চলচ্চিত্রের সেট।
এক শতাব্দীতে সিনেমার প্রযুক্তি বদলেছে—নির্বাক থেকে সবাক, সাদাকালো থেকে রঙিন, সেলুলয়েড থেকে ডিজিটাল। বদলেছে লেক লুইজের আশপাশও। কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্য অনেকটাই একই রয়ে গেছে। তাই আলাদা করে সেট তৈরি না করেও কানাডিয়ান রকিজের এই অঞ্চল সিনেমার পর্দায় হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃশ্যপট।