সংগীত দুনিয়ায় টেইলর সুইফটের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে পুরস্কারের মঞ্চ—সবখানেই রয়েছে তার দাপট। সম্প্রতি এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে প্রথম সংগীতশিল্পী হিসেবে ‘আর্টিস্ট ডিরেক্টর অ্যাওয়ার্ড’ জিতে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

তবে এমন জনপ্রিয় শিল্পীকেই এবার সমালোচনা করলেন মার্কিন সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও প্রযোজক টড রান্ডগ্রেন। তার দাবি, সুইফটকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক অ্যালবাম তৈরি করলে এমন যুক্তি দেখানো যেতে পারে যে, তিনি ‘সংগীতকে ধ্বংস করেছেন’।

ভালচারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান সময়ের কোনো শিল্পীকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক অ্যালবাম বানানোর সুযোগ পেলে কাকে বেছে নেবেন—এমন প্রশ্ন করা হয় টডকে। জবাবে তিনি টেইলর সুইফটের নাম বলেন।

১৯৭৭ সালে মিট লোফের ‘ব্যাট আউট অব হেল’ অ্যালবাম প্রযোজনা করেছিলেন টড। তার ভাষ্য, সেই অ্যালবামটি মূলত ব্রুস স্প্রিংস্টিনকে ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হলেও পরে সেটিই ব্যাপক সাফল্য পায়।

সুইফটকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে টড বলেন, ‘এমন যুক্তি দেওয়া যায় যে, সে সংগীতকে ধ্বংস করেছে। এটা কীভাবে ঘটেছে, সেটাও বোঝা যায়।’

সুইফটকে ‘মধ্যম মানের সংগীতের চূড়ান্ত প্রতীক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান সংগীতজগতকে ‘নারীদের যুগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এই প্রবীণ সংগীতশিল্পী।

এর ব্যাখ্যায় টড বলেন, নব্বইয়ের দশকে তরুণ পুরুষদের সংগীতের পেছনে অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা কমে ভিডিও গেমের দিকে ঝুঁকে যায়। তখন সংগীতশিল্পীরা কিশোরীদের বিশাল শ্রোতাগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন। তার মতে, এর পর থেকেই ব্যান্ডকেন্দ্রিক সংগীতের পরিবর্তে কিশোরীদের লক্ষ্য করে সংগীত তৈরির প্রবণতা বাড়ে।

অবশ্য টডের মন্তব্যের বিপরীতে সুইফটের সাম্প্রতিক সাফল্যও বেশ উল্লেখযোগ্য। তার সর্বশেষ অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’ থেকে প্রকাশিত ‘পেশেন্ট জিরো’ গানটি স্পটিফাইয়ে চলতি বছরে এক দিনে কোনো নারী শিল্পীর গানের মধ্যে সর্বোচ্চ স্ট্রিম পাওয়ার রেকর্ড করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে নারী শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম পাওয়া গানগুলোর মধ্যেও এটি রয়েছে।

অন্যদিকে টড রান্ডগ্রেন দীর্ঘ সংগীতজীবনে ব্যতিক্রমী কাজের জন্য পরিচিত। ১৯৬০-এর দশকে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা এই শিল্পী সত্তরের দশকের শুরুতে একক শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান। ইলেকট্রনিক সংগীত, প্রগ্রেসিভ রক, মিউজিক ভিডিও এবং সংগীতে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারে পথিকৃৎদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন তিনি। ২০২১ সালে রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন টড রান্ডগ্রেন।