তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া হাতির একটি শাবককে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির স্থানীয় জেলেরা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে গজলডোবা এলাকায় শাবকটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গজলডোবার কাছে নদী পার হওয়ার সময় হাতির একটি পাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় শাবকটি। তীব্র স্রোতে ভেসে কয়েক কিলোমিটার দূরে তিস্তার ১২ নম্বর স্পারের কাছে চলে যায় সেটি।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নদীতে থাকা কয়েকজন জেলের নজরে আসে পানিতে ভেসে থাকা কিছু একটা। কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান, সেটি একটি ছোট হাতির শাবক। পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় শাবকটি শুধু শুঁড়টি পানির ওপরে রেখে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
শাবকটিকে বাঁচাতে পাঁচ জেলে ছোট নৌকা নিয়ে দ্রুত তার কাছে পৌঁছান। নদীর তীব্র স্রোতের মধ্যেই তারা শাবকটিকে নৌকায় তুলে নেন। পরে তাকে তীরে নিয়ে আসা হয়। এ কাজে বন বিভাগের কর্মীরাও জেলেদের সহায়তা করেন।
উদ্ধারের পর শাবকটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কাঠামবাড়ি রেঞ্জ অফিসে নিয়ে তার প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। একই সঙ্গে বনকর্মীরা মা হাতিটির সন্ধান শুরু করেন। পরে জানা যায়, গজলডোবার কাছেই মা হাতিটি অবস্থান করছে।
এরপর শাবকটিকে তিস্তা ব্যারাজের অপর পাশে একটি নিরাপদ ও শুকনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মা হাতিটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় শাবকটিকে তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর মা ও শাবকের দেখা হয়। মা হাতিটি শাবকটিকে গ্রহণ করে এবং পরে দুটিকে একসঙ্গে জঙ্গলের দিকে চলে যেতে দেখা যায়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা হাতির শাবক দীর্ঘ সময় মানুষের সংস্পর্শে থাকলে মা হাতি কিংবা পাল তাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তাই দ্রুত শাবকটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
জেলেদের সাহসী উদ্যোগ ও বন বিভাগের সহযোগিতায় তিস্তার ভয়ংকর স্রোত থেকে শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যায় শাবকটি। মা ও শাবকের পুনর্মিলনে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যেও।