একদিকে বাজারে নিত্যপণ্যের দামের চাপ, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা। অনেক পরিবার সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে নানা উদ্বেগ। এমন পরিস্থিতিতে সংসদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত এসব সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধান। কোন আইন মানুষের উপকারে আসবে, কীভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়, কীভাবে বাজার পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায় এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তো সংসদীয় আলোচনার গুরুত্ব।
জাতীয় সংসদ ভবনের প্রতীতি অধিবেশনে এক মিনিটের খরচ প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা! একটু ভাবুন, যে টাকায় একটি পরিবারের অনেক দিনের খাবারের ব্যবস্থা হতে পারে, সেই টাকা সংসদে ব্যয় হচ্ছে মাত্র এক মিনিটে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনা ঘিরে উঠে এসেছে সংসদ পরিচালনার বিপুল ব্যয়ের হিসাব। প্রতি মিনিটে ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা খরচের হিসাবে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিটের আলোচনায় ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। এই অর্থের জোগানদাতা কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ।
সংসদ কোনো ব্যক্তিগত বাকযুদ্ধের মঞ্চ নয়। এটি দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার জায়গা। অথচ আলোচনার মূল্যবান সময় যদি ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপ্রয়োজনীয় তর্ক কিংবা রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে হারিয়ে যায়, তাহলে সেই সময়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। কারণ প্রতিটি মিনিটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনগণের অর্থ। সেই অর্থ ব্যয় করে যদি মানুষের জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলোই যথাযথ গুরুত্ব না পায়, তাহলে সংসদীয় কার্যক্রমের উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
সংসদ পরিচালনার ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারিশ্রমিক, বিদ্যুৎ-পানি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন খরচ। তাই শুধু ব্যয়ের অঙ্ক দেখেই সব আলোচনাকে অপচয় বলা যায় না। কিন্তু জনগণের অর্থে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা জরুরি বলে অনেকেই মনে করছেন । আলোচনা কতটা সার্থক হলো, কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এবং মানুষের সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো এসব বিষয়ের মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তাঁরা সংসদে যাবেন মানুষের কথা বলতে, মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে। তাই অপ্রাসঙ্গিক বিতর্কের পরিবর্তে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া, কিন্তু তা না করে অনেক সংসদ সদস্য মাননীয় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মরিয়া হয়ে থাকেন । যেখানে সংসদের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ। সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা শুধু দায়িত্ব নয়, জনগণের প্রতি জবাবদিহিতারও অপরিহার্য অংশ।