দৃশ্যটা গত রোববারের হাই-ভোল্টেজ ম্যানচেস্টার সিটি বনাম লিভারপুল ম্যাচের। অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে তখন হাজারো দর্শকের উত্তেজনা। কিন্তু সবার চোখ আটকে গেল সিটির গ্যালারিতে। সেখানে শত শত সমর্থক হাতে নিয়ে আছেন বড় বড় ফোলানো প্লাস্টিকের কলা! লিভারপুলের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মাঠে ফুটবলারদের স্বাগত জানাতে সিটির সমর্থকদের এই 'কলা প্রদর্শন' মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ফুটবলপ্রেমীদের মনে কৌতুহলের জন্ম দেয়।
হঠাৎ গ্যালারিতে কলার প্লাকার্ড দেখে অনেকেই অবাক হলেও, এর পেছনে রয়েছে ৩৯ বছরের পুরোনো এক ঐতিহ্য। ১৯৮৭ সালের আগস্টে ফ্রাঙ্ক নিউটন নামের এক সিটি সমর্থক প্রথম মাঠে একটি পাঁচ ফুট লম্বা ফোলানো কলা নিয়ে এসেছিলেন। সে সময় ক্লাবের জনপ্রিয় স্ট্রাইকার ইমরে ভারাদির নামের সাথে মিলিয়ে সমর্থকেরা মজা করে তাকে 'ইমরে বানানা' বলে ডাকতেন। সেই মজার ছলে শুরু হওয়া সংস্কৃতিই পরবর্তীতে সিটির গ্যালারির চেনা রূপ হয়ে ওঠে। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে জনপ্রিয় হওয়া এই ঐতিহ্যটি এবার অ্যানফিল্ডে ফিরিয়ে আনার মূল কারিগর ছিল সিটির সমর্থক গোষ্ঠী ‘১৮৯৪ গ্রুপ’। সম্প্রতি প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগের রায় প্রকাশের পর ক্লাবটি যখন বেশ কঠিন ও বৈরী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই সমর্থকেরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রেট্রো জার্সি আর ফোলানো কলার মাধ্যমে তারা ক্লাবের সোনালী অতীত ও একতাবদ্ধতাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
ম্যাচজুড়ে অ্যানফিল্ডের স্বাগতিক লিভারপুল সমর্থকেরা যখন সিটির আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে দুয়ো দিচ্ছিলেন ও ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন, তখন সিটির ভক্তরা এই কলার সংস্কৃতি দিয়ে তার জবাব দেন। কোনো রকম সহিংসতা বা কুরুচিপূর্ণ স্লোগান ছাড়াই, স্রেফ আনন্দ আর ঐতিহ্যের মাধ্যমে তারা প্রতিপক্ষের মাঠের বৈরী পরিবেশকে হালকা করে দেন এবং প্রমাণ করেন যে তারা ক্লাবের যেকোনো পরিস্থিতিতে পাশে আছেন।
মাঠে আর্লিং হালান্ড ও জেরেমি ডোকুদের ৩-০ গোলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স যেমন সিটিকে জয় এনে দিয়েছে, ঠিক তেমনি গ্যালারিতে ফোলানো কলার এই রঙিন উৎসব ফুটবলকে দিয়েছে এক দারুণ নস্টালজিয়া। ফুটবল যে কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং গ্যালারির আবেগ ও ঐতিহ্যের এক মহা-মিলনমেলা, অ্যানফিল্ডে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকেরা যেন গতকাল আরও একবার সেটিই প্রমাণ করে দেখালেন।