নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ ও কুয়েতের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুয়েতের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর, আধুনিক ও বহুমাত্রিক রূপ দেওয়ার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন নেতৃবৃন্দ।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সময় থেকে বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও গভীর সহযোগিতার যে শক্ত ভিত্তি গড়ে উঠেছিল, তা সময়ের পরিক্রমায় আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের আপামর জনগণের পারস্পরিক সার্বিক কল্যাণে এই ঐতিহাসিক ভিত্তিকে আরও গতিশীল ও বহুমাত্রিক করার সময় এসেছে।
বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে অর্থনীতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নতুন বিনিয়োগ, শ্রমশক্তি এবং অন্যান্য উদীয়মান সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে উভয় নেতা দুই দেশের মধ্যে শ্রমশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি, দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিসর সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইস্যু নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই নিজ নিজ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারস্পরিক সমন্বয় অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের সমাপনীতে দুই দেশের জনগণের সুনির্দিষ্ট পারস্পরিক স্বার্থ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিদ্যমান বহুমাত্রিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় নেতা।