লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে আমনের আবাদ, দিনাজপুরের মাঠে এবার সোনালি ফসলের হাতছানি। চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি জমিতে আমন চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত আর এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় কৃষকের চোখেমুখেও ফুটে উঠেছে ভালো ফলনের প্রত্যাশা।

চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৭২ হাজার ২৭০ হেক্টর। কিন্তু সেই হিসাব ছাড়িয়ে আরও ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করেছেন কৃষকরা। ফলে সব মিলিয়ে আমনের আওতায় এসেছে প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমি। আর এই বাড়তি আবাদই যেন জেলাজুড়ে সম্ভাবনার পরিধিটা আরও বড় করে দিয়েছে।

শুধু জমির পরিমাণই নয়, ধানের ক্ষেতের বর্তমান চিত্রও কৃষকদের আশাবাদী করছে। উচ্চ ফলনশীল, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের ধানে বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সবুজে মোড়া। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় সেচের চাপ কমেছে, অন্যদিকে এখন পর্যন্ত বড় কোনো রোগবালাইয়ের প্রকোপও দেখা যায়নি। সবকিছু অনুকূলে থাকলে এবার প্রায় ৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ হতে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

আর মাঠের এই আশাবাদ মিলছে কৃষকের কথাতেও। দিনাজপুর সদর ও চিরিরবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বলছেন, ধানের গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠেছে, ক্ষেতেও নেই বড় ধরনের রোগবালাই। তাই পরিচর্যায় কোনো কমতি রাখছেন না তারা। ভালো ফলন ঘরে তোলার প্রত্যাশায় এখন প্রতিটি দিনের যত্ন যেন হয়ে উঠেছে সোনালি ফসলের অপেক্ষার প্রস্তুতি।

এই প্রত্যাশার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে প্রকৃতিও। চলতি মৌসুমে আমনের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত পাওয়ায় অনেক জমিতেই পানির সংকট দেখা দেয়নি। আবার বর্ষা শেষের দিকে চলে আসায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কাও কমেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পরিদর্শনেও ধানের অবস্থা সন্তোষজনক বলে উঠে এসেছে। ফলে অনুকূল আবহাওয়ার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনাই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, আগাম জাতের ধান কাটা-মাড়াই শুরু হতে পারে কার্তিকের মাঝামাঝি। এরপর অগ্রহায়ণজুড়ে চলবে ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নত জাতের বীজ, সময়মতো সার প্রয়োগ, সঠিক পরিচর্যা এবং মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ - সব মিলিয়েই এবারের আমন মৌসুমে ভালো ফলনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সবশেষে তাই দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ শুধু কৃষকের স্বপ্নই দেখাচ্ছে না, জোগাচ্ছে খাদ্যনিরাপত্তার নতুন আশাও। দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই জেলায় আমনের ফলন প্রত্যাশামতো হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও বাড়তি চাল দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। এখন অপেক্ষা শুধু সবুজ ধানগাছের সোনালি হয়ে ওঠার - আর কৃষকের গোলা ভরে ওঠার।