দুবাই থেকে তেল আবিব যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মাত্র দুই মিনিটে উড়োজাহাজটি প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ ফুট নিচে নেমে যায়। পরে জরুরি সংকেত পাঠিয়ে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়।
বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়েছিল উড়োজাহাজটি। পাইলটদের মধ্যে হাতাহাতির সময় বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় উড়োজাহাজ থেকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ পাঠানো হয়। এ ধরনের সংকেত সাধারণত বিমানে গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যবহার করা হয়। সংকেত পাওয়ার পর বেন গুরিয়নে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও পরে জানা যায়, বিমানটি ছিনতাই হয়নি।
এরপর উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। বিমানবন্দর সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, উড়োজাহাজটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং সব যাত্রী নিরাপদে আছেন।
ঘটনার কারণ নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এসেছে। কোথাও পাইলটদের তীব্র বাকবিতণ্ডার কথা বলা হয়েছে, আবার কোথাও হাতাহাতির সময় একজন পাইলট আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এমনকি একজন পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি নিচের দিকে নামানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিমানের কয়েকজন যাত্রী ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে জানিয়েছেন, তারা ককপিটের দিক থেকে চিৎকার ও ঝগড়ার শব্দ শুনেছিলেন। অবতরণের আগে বিমানটি হঠাৎ দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাওয়ার কথাও জানান তারা।
ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট দলগুলো বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেট দেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছেন। তার দপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইসরায়েলি যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
উড়োজাহাজের ককপিটে পাইলটদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বিরল হলেও নজিরবিহীন নয়। ২০২২ সালে জেনেভা-প্যারিস রুটের একটি এয়ার ফ্রান্স ফ্লাইটে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় বিমানটির গতিপথ পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়নি।