গ্যাসের সরবরাহ সংকটে দেশের অন্যতম বড় সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে গত দুই বছরে মাত্র তিন দিন উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে আশুগঞ্জ সার কারখানায় ১৯ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে দেশে সার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে সার কারখানাগুলোর এমন চিত্র উঠে আসে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে সার উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।

কারখানাগুলোর উৎপাদন পরিস্থিতি তুলে ধরার পর দেশে সম্ভাব্য সার সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেয় কমিটি। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে সার আমদানির চাপ কমাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

বন্ধ থাকা সার কারখানাগুলো পুনরায় চালু এবং পুরোনো কারখানাগুলো আধুনিকায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ চেয়েছে কমিটি।

বৈঠকে সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সার সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া নজরদারির আওতায় আনতে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিএডিসির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

পরবর্তী বৈঠকে বিএডিসির পক্ষ থেকে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়, বিসিআইসি, বিএডিসি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।