টেকনাফে অপহৃত হওয়ার পর সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় গভীর সাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে ৬৫ জন ভুক্তভোগীকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। একই সঙ্গে ওই মানব পাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বঙ্গোপসাগরে সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি গভীর সমুদ্রে নিয়মিত টহল পরিচালনার সময় তাঁদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ৬৫ জন ব্যক্তিই প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাগরে নেমেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে নৌবাহিনীর গণসংযোগ দপ্তর থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সন্দেহজনক ট্রলার ও অভিযান নৌবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সেন্টমার্টিন লাইট হাউস থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল গভীরে সমুদ্রে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত ‘এফভি ক্রিস্টাল-১’ নামের একটি বাণিজ্য মাছ ধরার বোট একটি অনিয়ন্ত্রিত কাঠের বোটকে সাগরে ভাসতে দেখে। ঐ বোটে থাকা কিছু ব্যক্তির অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক আচরণ দেখে মাছ ধরার বোটের নাবিকেরা দ্রুত বিষয়টি নৌবাহিনীকে অবহিত করেন।
খবর পাওয়ার সাথে সাথে সেন্টমার্টিন ও আশপাশের সামুদ্রিক সীমানায় টহলরত নৌবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’ দ্রুত চিহ্নিত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে কাঠের বোটটি থেকে সর্বমোট ৭৬ জনকে উদ্ধার করে জাহাজে তোলা হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশিতে তাঁদের মধ্য থেকে ১১ জনকে মূল মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
অপহরণ ও সাগরে চরম দুর্ভোগ নৌবাহিনী জানায়, উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের অধিকাংশকেই মূলত মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে টেকনাফের অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বন্দি করে রেখেছিল। পরে তাঁদের জোড়পূর্বক ও প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য সমুদ্রপথে ওই কাঠের বোটে তোলা হয়।
কিন্তু গভীর সাগরে পৌঁছানোর পরই বোটটির প্রধান ইঞ্জিন ও পানি নিষ্কাশনের পাম্প বিকল হয়ে যায়। ফলে দ্রুত কাঠের বোটে সমুদ্রের পানি ঢুকতে শুরু করে এবং সেটি ডুবে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়ে। খবর পেয়ে নৌবাহিনীর দক্ষ সদস্যরা অনতিবিলম্বে বোটের পানি নিষ্কাশন করে এবং মোট ৭৬ জনকে নিরাপদে প্রাণ রক্ষার্থে উদ্ধার করেন।
মানবিক সহায়তা ও আইনি পদক্ষেপ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকটজনক অবস্থা থেকে উদ্ধার হওয়া সব ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা, জরুরি খাবার এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
আটককৃত ১১ জন চিহ্নিত পাচারকারী এবং জব্দ করা কাঠের বোটটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।