দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও ক্রিকেটের ব্যস্ততায় মুখর খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম। জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ ঘিরে মাঠে ফিরেছে দর্শকদের কোলাহল, আর প্রিয় ক্রিকেটারদের সামনাসামনি দেখতে ভিড় জমিয়েছেন ভক্তরা। খুলনা ও বরিশালের লড়াই দিয়ে শুরু হওয়া প্রথম দিনটা অবশ্য কম রোমাঞ্চ ছড়ায়নি। দিন শেষে ৫ উইকেটে ৩২৮ রান নিয়ে স্বস্তিতে খুলনা।

দীর্ঘ সময় পর শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লিগের খেলা। তাই ম্যাচের বল গড়ানোর আগেই মাঠজুড়ে ছিল বাড়তি কৌতূহল। প্রিয় ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখা, তাদের ব্যাটিং উপভোগ করা - সব মিলিয়ে দর্শকদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস। খুলনা-বরিশালের লড়াই দিয়ে সেই অপেক্ষারও হলো অবসান।

আর মাঠে খেলা শুরু হতেই জমে ওঠে উত্তেজনা। খুলনার হয়ে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। তবে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও থামতে হয় তাকে - ৮৯ রানে। একই আক্ষেপ কালাম সিদ্দিকেরও। তিনিও সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৮ রান দূরে থামেন, ৯২ রানে।

দুই ব্যাটারের আক্ষেপের মাঝেও খুলনার ইনিংসকে এগিয়ে নেন সোহান ও আফিফ হোসাইন। ব্যাটে তাদের সাবলীলতা যেমন দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে, তেমনি গ্যালারির উত্তেজনাও বাড়িয়েছে। তবে খুলনার ব্যাটিংয়ের মাঝেই বরিশালের হয়ে আলো ছড়িয়েছেন রুয়েল মিয়া। একাই তুলে নিয়েছেন তিনটি উইকেট।

তবে দিনের সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্যগুলো ছিল মাঠের বাইরের। দারুণ এক ইনিংস খেলে মিঠুন যখন মাঠ ছাড়ছেন, তখনই তাকে ঘিরে ভক্তদের আবদার - একটা ছবি চাই, প্রিয় ক্রিকেটারের সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হওয়ার সেই মুহূর্তে ফুটে ওঠে দীর্ঘদিন পর খুলনায় ক্রিকেট ফেরার আনন্দ।

শুধু ছবি তোলার আবদারেই থামেনি ভক্তদের উচ্ছ্বাস। আফিফ হোসাইনকে ঘিরেও ছিল একইরকম ভালোবাসা। প্রিয় তারকার স্বাক্ষর পেতে এগিয়ে আসেন সমর্থকেরা। আর ভক্তদের সেই আবদারও হাসিমুখে পূরণ করেন আফিফ - একে একে সবার জার্সিতে দিয়ে দেন নিজের অটোগ্রাফ।

ক্রিকেটারদের ব্যাটিং, উইকেটের লড়াই কিংবা রান - মাঠের উত্তেজনার সঙ্গে এভাবেই মিশে গেছে দর্শকদের ভালোবাসা। দীর্ঘ সময় পর খুলনায় জাতীয় ক্রিকেট লিগের ফেরায় যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম। মাঠে যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, গ্যালারিতে তেমনি প্রিয় ক্রিকেটারদের ঘিরে উচ্ছ্বাস।