নিজের ব্যাগপত্র গুছিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করছেন বাংলাদেশ দলের মিস্ট্রি স্পিনার আলিস আল ইসলাম। এর আগে বহুবার বিমানবন্দরে পা রেখেছেন তিনি। তবে এবারের যাত্রাটা যেন অন্য সববারের চেয়ে আলাদা । কারণ, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন এই রহস্যময় স্পিনার। আর সেই ডাক পাওয়ার পর এবার ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিতে সতীর্থদের সঙ্গে দুবাইয়ের পথে আলিস। ক্যারিয়ারের নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখার অপেক্ষায় থাকা এই স্পিনারের সামনে এবার নিজেকে নতুন ফরম্যাটে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ। ঘোরোয়া টি-টোয়েন্টিতে নিজের বোলিংয়ের জাদু দেখিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছেন তিনি। এবার ৫০ ওভারের ক্রিকেটেও সেই রহস্যময় ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বোকা বানাতে পারবেন কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে জাতীয় দলের দরজা খুলেছে আলিসের। ২০২৪ সালে বিপিএলে বল হাতে আলো ছড়িয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কাড়েন তিনি। নিজের ব্যতিক্রমী বোলিং আর রহস্যময় ডেলিভারিতে জায়গা করে নেন আলোচনার কেন্দ্রে। এরপর থেকেই জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন এই স্পিনার। সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ আসে ২০২৬ সালে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। এবার সেই পথচলাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পেয়ে আলিসের সামনে খুলেছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে জায়গা করে নেওয়াই শেষ কথা নয়, বরং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলে নিজের অবস্থান শক্ত করাই হবে তার মূল লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য পূরণে ত্রিদেশীয় সিরিজ হতে পারে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
আলিসের জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনেও রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে তার রহস্যময় বোলিংয়ের ধরন নিয়ে আলোচনা রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করার সক্ষমতা আর ভিন্নধর্মী বোলিং অ্যাকশন তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। সতীর্থদের কাছেও তার বোলিংয়ের বিশেষত্ব অজানা নয়। আলিসের মিস্ট্রি স্পিনের প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানও।
সামনে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট। তাই এখন থেকেই ভবিষ্যতের দল গুছিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পেস সহায়ক কন্ডিশনে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে বোলারদের ভূমিকা হতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, আলিস আল ইসলামের মতো একজন মিস্ট্রি স্পিনার কতটা কার্যকর হয়ে উঠতে পারবেন? পেসারদের জন্য বাড়তি সুবিধা থাকা উইকেটে নিজের বৈচিত্র্যময় স্পিন দিয়ে ব্যাটারদের আটকে দিতে পারবেন কি তিনি? নাকি প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা তার বোলিংয়ের রহস্য বুঝে ফেললে কঠিন হয়ে উঠবে টিকে থাকা? তবে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে মাঠের পারফরম্যান্সেই। ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়ানডে ক্রিকেটের সঙ্গে নিজেকে কতটা মানিয়ে নিতে পারেন, তার ওপরও নির্ভর করবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ। টি-টোয়েন্টিতে পরিচিতি পাওয়া আলিস এবার ওয়ানডেতেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারলে জাতীয় দলে তার অবস্থান আরও শক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।