আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে কম ম্যাচে ৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। শুধু তাই নয়, এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিতেও দেশের পেসারদের মধ্যে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার।

টেস্টে প্রথম বাংলাদেশী পেস বোলার হিসেবে হ্যাট্রিক করার পর হাসানের করা বলে লিটন দাসের গ্লাভসে ধরা পড়ল ক্যাচ। সঙ্গে সঙ্গে আবেদন করলেন হাসান । হাসান মাহমুদ ফিরে তাকাতেই আঙুল তুলে দিলেন আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেক। তবে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিলেন আফগান ব্যাটার ইয়ামিন আহমাদজাই। তাতে শেষ পর্যন্ত বদলায়নি সিদ্ধান্ত। আল্ট্রা এজে স্পষ্ট স্পাইক ধরা পড়তেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন হাসান। আবুধাবির মাঠেই সিজদায় অবনত হন তিনি। আহমাদজাইকে ফিরিয়েই টেস্টে নিজের ৫০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন বাংলাদেশের এই পেসার। টেস্টে উইকেটের অর্ধশতক পূর্ণ করতে হাসানের লেগেছে মাত্র ১৭ ম্যাচ। তাতেই পেছনে পড়েছেন তাসকিন আহমেদ ও মাশরাফি বিন মর্তুজা। তাসকিন ১৮ ম্যাচে এবং মাশরাফি ১৯ ম্যাচে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে দ্রুততম এই অর্জন এখন এককভাবে হাসান মাহমুদের।

এদিন আরেকটি কীর্তিও গড়েছেন হাসান। টেস্টে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এই কীর্তিতে তাঁর সঙ্গী শাহাদাত হোসেন। দুজনই চারবার করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। তালিকার পরের অবস্থানে রয়েছেন রবিউল ইসলাম ও নাহিদ রানা। দুজনেরই রয়েছে দুইবার করে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি।

তবে হাসানের রেকর্ডের গল্প কেবল ৫০ উইকেটেই সীমাবদ্ধ নয়। এই মাইলফলকে পৌঁছানোর পথেই বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন তিনি। ইসমাত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমান আকবরকে টানা তিন বলে ফিরিয়ে নিজের প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান। ইনিংসের ৮৩তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে এই কীর্তি গড়েন তিনি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিকের খাতায় নাম লেখান হাসান। এর আগে ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোহাগ গাজী এই কীর্তি গড়েছিলেন।

হাসান মাহমুদের সঙ্গে ইবাদত হোসেনের বোলিং তোপে তৃতীয় দিনে মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই শেষ ছয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় তাদের প্রথম ইনিংস। ফলে টাইগারদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৯ রানে। এক ম্যাচেই একাধিক মাইলফলক, সঙ্গে রেকর্ডের নতুন অধ্যায়। বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন হাসান মাহমুদ।