বিশ্বকাপের মঞ্চে সবশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এরপর এশিয়া কাপ, এশিয়ান গেমস কিংবা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কোনো আসরেই ধারাবাহিক সাফল্যের দেখা নেই নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের। একের পর এক পরাজয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের নারী দলের দুর্বলতাগুলো যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার প্রত্যাশা থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে সেই ছাপ রাখতে পারছেন না টাইগ্রেসরা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজের প্রথম ম্যাচেও হতাশার গল্প। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। অজিদের স্পোর্টিং উইকেটে ব্যাটিং কিংবা বোলিং কোনো বিভাগেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেনি জ্যোতির দল। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, যে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখেন এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা, সেই দলের এমন ভঙ্গুর অবস্থা কেন? কেনই বা বড় টুর্নামেন্ট কিংবা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের দেখা মিলছে না? প্রতিবারই কি ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে থাকবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা?
বিশ্বকাপের পর এখন পর্যন্ত ১১টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এর মধ্যে ৮টিতেই হার, পরিত্যক্ত হয়েছে একটি ম্যাচ, আর জয় এসেছে মাত্র দুটিতে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, সেই দুই জয় এসেছে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। অর্থাৎ, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের চ্যালেঞ্জে বারবারই হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে দায়িত্বহীনতা, বোলিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব আর ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা সব মিলিয়ে টাইগ্রেসদের পারফরম্যান্সে ফুটে উঠছে সংকটের চিত্র।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাই বাড়ছে উদ্বেগ। ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে না পারা, বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে ব্যর্থ হওয়া এবং দলীয় পারফরম্যান্সের অভাব সবকিছুই যেন পরাজয়ের পথ আরও দীর্ঘ করছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনো রয়েছে জ্যোতির দলের সামনে। বাকি দুই ম্যাচে জয় পেতে হলে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই দেখাতে হবে সম্মিলিত পারফরম্যান্স। অজিদের বিপক্ষে একটি জয় শুধু সিরিজের সমীকরণেই পরিবর্তন আনবে না, বরং পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজগুলোতেও জোগাতে পারে আত্মবিশ্বাস। এখন দেখার বিষয়, পরাজয়ের বৃত্ত ভেঙে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না বাংলাদেশের মেয়েরা।