পবিত্র মক্কা মুকাররমাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে হাউছি বিদ্রোহীদের হামলা ও সামরিক তৎপরতার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি বাংলাদেশ’। সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে যে, পবিত্র মক্কার নিরাপত্তা ও মর্যাদা বিঘ্নিত করার মতো যেকোনো সামরিক হুমকি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় অনুভূতিতে এক মারাত্মক আঘাত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মাদ ওয়ালি উল্লাহ, প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ মানযুর এ ইলাহী, প্রফেসর ডক্টর আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া, প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, ডক্টর শহীদুল্লাহ খান মাদানী, প্রফেসর ডক্টর শফি উদ্দিন, ডক্টর মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ডক্টর মোহাম্মদ আব্দুল হালীম মাদানী, ডক্টর আব্দুল্লাহ আল কাফি, ডক্টর রেজাউল করিম, ডক্টর আবদুল বাসীর, ডক্টর হারুন অর রশীদ ত্রিশালী এবং ডক্টর আব্দুল মুমিনসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একদল বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আলেম।

বিবৃতিতে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কা মুকাররমায় অবস্থিত কাবা শরিফ হলো বিশ্ব মুসলিমের কিবলা এবং ঈমানি ও আত্মিক ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু। তাই এই পবিত্র ভূমির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রয়াস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কা মুকাররমার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত ও ধ্বংস করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পবিত্র নগরীর শান্তি বিনষ্টের এই অপচেষ্টা সাধারণ মুসলিম হৃদয়ে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিবৃতিতে আরও মনে করিয়ে দেওয়া হয়, এর আগে ২০১৭ সালেও মক্কার দিকে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছিল। সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার চেষ্টা সেই পুরোনো নিরাপত্তাহীনতাকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে।

বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, মক্কা কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয় এবং কাবা শরিফ কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না। পবিত্র স্থান, বেসামরিক জনগণ এবং হজ-ওমরাহ পালনকারীদের সার্বিক নিরাপত্তায় অবিলম্বে সামরিক উত্তেজনা বন্ধের আহ্বান জানান তাঁরা।

পবিত্র মক্কার বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে কোরআনের বাণী উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—‘আর যে ব্যক্তি সেখানে অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘনের ইচ্ছা করে, তাকে আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব।’ (সূরা আল-হাজ্জ, ২২:২৫)। এছাড়া সূরা আলে ইমরানের ৯৭ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলা হয়, ‘আর যে তাতে প্রবেশ করে, সে নিরাপদ।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত এই পবিত্র ভূমির নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা পুরো উম্মাহর বিরুদ্ধে চরম অপরাধের শামিল।

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মুসলিম বিশ্বের সংস্থাসমূহকে পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সৌদি সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে হাউছিদের সহিংস পথ ত্যাগ করে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়।