অবৈধভাবে কারখানায় বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেল ও মানহীন অন্যান্য সামগ্রী তৈরির অপরাধে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
দণ্ডাদেশ দেওয়ার পরপরই তাঁকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লাবাড়ি সড়ক এলাকায় শাহেদের মালিকানাধীন 'মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরি' নামের প্রতিষ্ঠানে এক বিশেষ যৌথ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন।
অভিযানে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শাহেদকে এই কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কোনো বৈধ প্রক্রিয়া না মেনে অবৈধভাবে এই কারখানা পরিচালনা করে আসছিলেন এনসিপি নেতা বায়েজিদ শাহেদ। সেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে শিশুদের জন্য বেবি জেল, প্রাপ্তবয়স্কদের বিভিন্ন ধরনের অনুমোদনহীন যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং নামসর্বস্ব বেশ কিছু আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছিল।
অভিযান পরিচালনাকালে কারখানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়।
এনসিপি নেতার এই কারাদণ্ডের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খান বলেন, “যেকোনো ধরনের অন্যায় ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দলের কোনো আপস নেই। দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজে জড়ায়, তবে তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটিকে দ্রুত অবগত করব।”