অবৈধভাবে সার মজুত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা ভঙ্গের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির (২) মনিরুল ইসলামের রুকনিয়াত (সদস্য পদ) বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. ইউসুফ আলী।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানা দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি এলাকায় মনিরুল ইসলামের বসতবাড়িতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত উক্ত অভিযানে ৫০ কেজি ওজনের ১৮ বস্তা অবৈধভাবে মজুতকৃত ইউরিয়া সার জব্দ করা হয় এবং তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে মনিরুল ইসলাম নিজেকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) নিবন্ধিত ডিলার দাবি করে জানান, সারের বাড়তি চাহিদার কারণে নিজের জমি ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য তিনি নিজ বাড়িতে এই সারগুলো এনে রেখেছিলেন।
দলীয় ব্যবস্থা ও সম্পর্কচ্ছেদ উপজেলা আমির জানান, সারের অবৈধ মজুতদারিতে জড়িয়ে পড়ে দলের আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতা পরিপন্থি কাজ করার প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রের জরুরি বৈঠকে তার রুকনিয়াত বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম জানান, আমিরে জামায়াত মাওলানা ডা. শফিকুর রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সদস্য পদ বাতিল কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে মনিরুল ইসলামের সাথে জামায়াতে ইসলামীর আর কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই এবং তার ব্যক্তিগত কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব দল বহন করবে না।
এদিকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মনিরুল ইসলামও তার সদস্য পদ বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৌখিকভাবে তাকে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে এবং শিগগিরই লিখিত পত্র পাবেন।