শার্টের বোতামের অবস্থান নিয়ে কখনো ভেবেছেন? সাধারণত পুরুষের শার্টে বোতাম থাকে ডান দিকে, আর নারীদের শার্টে বাম দিকে। কেন এই পার্থক্য—এর সুনির্দিষ্ট উত্তর অবশ্য এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে এ নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক তত্ত্ব।
ইতিহাসবিদদের একটি ধারণা, পুরুষের পোশাকে ডান দিকে বোতাম রাখার প্রচলন সামরিক পোশাক ও অস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন *টাইম*-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পুরুষদের পোশাকের এই বৈশিষ্ট্য সামরিক বাহিনী থেকে আসতে পারে।
তৎকালীন পোশাকে অস্ত্র বহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে ডান দিকে বোতাম থাকা সুবিধাজনক হতে পারে বলে মনে করা হয়। কারণ, তলোয়ার সাধারণত বাম পাশে রাখা হতো, যাতে ডান হাত দিয়ে সহজেই তা বের করা যায়। কিছু গবেষকের মতে, এই কারণেই পুরুষের পোশাকে ডান দিকে বোতাম রাখার প্রচলন তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
তবে নারীদের পোশাকে বোতাম বাম দিকে থাকার পেছনেও রয়েছে একাধিক তত্ত্ব।
শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ অ্যান্ড ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ১৩ শতকে বোতামের প্রচলন শুরু হওয়ার পর ধনী নারীদের পোশাক ছিল তুলনামূলকভাবে ভারী ও জটিল। ফলে তাঁদের পোশাক পরাতে প্রায়ই পরিচারিকাদের সাহায্য নিতে হতো। বাম দিকে বোতাম থাকলে পরিচারিকাদের জন্য তা লাগানো তুলনামূলক সহজ ছিল—এমন একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে।
আরেকটি তত্ত্ব অনুযায়ী, নারীরা ঐতিহাসিকভাবে বাম হাতে শিশুদের ধরে রাখতেন। ফলে পোশাকের বোতাম বাম দিকে থাকলে অন্য হাত দিয়ে সহজে বোতাম খোলা বা লাগানো সম্ভব হতো। তবে এই ব্যাখ্যার পক্ষেও নিশ্চিত ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।
অর্থাৎ, পুরুষ ও নারীদের পোশাকে বোতামের অবস্থানের পেছনে সামরিক ব্যবহার, পোশাক পরানোর প্রথা কিংবা দৈনন্দিন সুবিধার মতো বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে কোন কারণটি মূলত এই প্রচলনের জন্ম দিয়েছে, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে এখনো একমত নেই।
বর্তমান ফ্যাশনে অবশ্য এই পুরোনো বিভাজন অনেকটাই বদলে গেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ডিজাইনারের পোশাকে নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই বোতামের অবস্থান ভিন্ন হতে দেখা যায়।