রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলে ও পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য আজাদ আলীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (৪ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আজাদ আলী লোকজন নিয়ে ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা দেন। এ সময় বাঁশ দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেও বেড়া দেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি গ্রামে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়। এতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনায় রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের অনুমতিও রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। পরে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সভা করে প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ রাখেন। জানা গেছে, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই।
তবে আজাদ আলীর দাবি, প্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল কলেজ করার কথা ছিল এবং তার ছেলে ও পুত্রবধূকে সেখানে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতেই তিনি জমি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার দাবি অনুযায়ী, সেই নামে প্রতিষ্ঠান হয়নি এবং পুত্রবধূকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণে তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।
আজাদ আলী বলেন, ‘আমি প্রতিষ্ঠানের একজন দাতা সদস্য। টেকনিক্যাল কলেজ করার কথা ছিল। আমার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার কথা থাকায় আমি জমি দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই নামে প্রতিষ্ঠান হয়নি এবং আমার ছেলের বউকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণে আমি তালা দিয়েছি এবং কলাগাছ লাগিয়েছি।’
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, আজাদ আলী জমি দান করেছেন এবং দলিল অনুযায়ী জমিটি বর্তমানে বিদ্যালয়ের। এ দলিল বাতিল করতে হলে আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে। দলিল বহাল থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ে তালা ঝোলানো বা গাছ লাগানোর সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, জমি ফেরত নিতে হলে আদালতের রায় প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে কলাগাছ সরানো এবং তালা খোলার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে বিদ্যালয়টি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।