জামায়াতকে অতীতের সহযোগিতার কথা ভুলে যাওয়া ‘অকৃতজ্ঞ’ দল হিসেবে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছিলেন। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বদলের ক্ষেত্রেও তখন চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু জামায়াত এখন সেই ইতিহাস মনে রাখছে না।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই সরকার পতনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় ও উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এনসিপি ও জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পুরোনো যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে আগের সম্পর্ক আবারও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে তাদের কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের স্বার্থকে সহায়তা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১১ দলীয় জোটের নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে এক ধরনের বক্তব্য এবং বাইরে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দলের দুঃসময়ে যারা বিএনপির পাশে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা হবে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা ব্যক্তিদের আর জায়গা দেওয়া হবে না।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়ে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত জুলাইয়ের বন্যায় বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাঁশখালীতে প্রায় ১২ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ৫১০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মোট ১ হাজার ১০০ পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে এবং প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করবে এবং বাকি অংশ সরকারের কাছে বিক্রি করা হবে। আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।