কৃষকের ঘরে যখন আমনের ব্যস্ততা, তখন মাঠে নেমে সারের জন্য হাহাকার। কুড়িগ্রামের উলিপুরে নির্ধারিত দামে ইউরিয়া সার না পাওয়া ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে এবার ক্ষোভের মুখে পড়েছেন এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ করেছেন একদল কৃষক, পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে ওই কর্মকর্তাকে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে। বিক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, ভরা আমন মৌসুমে সরকারি নির্ধারিত দামে ডিলারের কাছ থেকে মিলছে না ইউরিয়া সার। অথচ একই সার খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাড়তি দামের বোঝা সবচেয়ে বেশি চেপে বসেছে প্রান্তিক ও ছোট কৃষকদের কাঁধে।
এই অভিযোগের মধ্যেই বাজারে দেখা যায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমারকে। স্থানীয় একটি খুচরা সারের দোকানে দোকানির সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। তাঁকে দেখেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সেখানে থাকা কৃষকেরা। একপর্যায়ে তাঁকে ঘিরে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন ওই কর্মকর্তা। কৃষকদের অভিযোগ, দিনের পর দিন ডিলারের কাছে ঘুরেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ খুচরা দোকানে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে সেই সার। তাঁদের দাবি, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের যোগসাজশেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি এর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তাদের কেউ জড়িত কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিক্ষুব্ধরা।
তবে কৃষকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন স্বপন কুমার। তাঁর দাবি, কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করতেই তিনি বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে যান। কোথায় কত পরিমাণ সারের প্রয়োজন, সেই তথ্য নেওয়ার কাজের অংশ হিসেবেই শুক্রবার গাবতলী বাজারে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে কৃষকেরা তাঁকে ঘিরে ফেললে পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশের দোকানে আশ্রয় নিতে হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এদিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত আলী সরকার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ জানিয়েছেন, ওই বাজারে সেদিন সার বিক্রির কোনো ঘোষণা বা কার্যক্রম ছিল না। তবে কৃষকেরা একজন কৃষি কর্মকর্তাকে ঘিরে ফেলেছেন - এমন খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
উলিপুরের এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিনে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতেও সারসংকট ও অনিয়মের অভিযোগে এক কৃষি কর্মকর্তাকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। দুই উপজেলায় একই ধরনের অভিযোগে কৃষকদের ক্ষোভ যেন সামনে আনছে এক বড় প্রশ্ন - ভরা আমন মৌসুমে সরকারি দামে কৃষকের হাতে পর্যাপ্ত সার পৌঁছাচ্ছে তো? এখন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত আর বাজারে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দিকেই তাকিয়ে কৃষকেরা।