জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর রাজধানীর বাজারে সবজি ও মাছের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা এবং মাছের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম গত দেড় মাস ধরে প্রায় একই রয়েছে। এদিকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহও কিছুটা কমেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আদাবর বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
গত রোববার সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। এর মধ্যে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। পেট্রল ও অকটেনের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ১৬০ ও ১৬৫ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বেড়েছে পণ্য পরিবহনের খরচ। ফলে উৎপাদনস্থল থেকে পাইকারি বাজার এবং সেখান থেকে খুচরা বাজার—প্রতিটি পর্যায়েই পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজারে কয়েক ধরনের সবজির দাম ইতিমধ্যে বেড়েছে। চার দিন আগে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১০০ থেকে ১৬০ টাকা। পটোল, কাঁকরোল ও বরবটির দামও বেড়েছে। আগে এসব সবজি প্রায় ৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও দেখা গেছে একই প্রবণতা। বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শিং মাছের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে এখন কেজি প্রায় ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি কই, পাবদা, চিংড়ি, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও রুই মাছের দামও কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৫ টাকা এবং ময়দার দাম ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে খোলা আটা ৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি এবং ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, প্রায় দেড় মাস ধরে এসব পণ্যের দাম এই পর্যায়েই রয়েছে।
এদিকে বাজারে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। পাঁচ লিটারের বোতলের সরবরাহও আগের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
চলতি মাসের শুরুতে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ায়। এরপর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম দাঁড়ায় ২০৪ টাকা। এর আগে প্রায় দুই মাস ধরেই বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম ছিল।
বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানিগুলো বর্তমানে বাজারে তুলনামূলক কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে। সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তাঁরা জেনেছেন, কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়ানোর কথা ভাবছে। তবে সব বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সমানভাবে কমেনি।