ছাদের ওপর ছোট্ট এক বাগান, সেখানেই যেন স্বপ্নের ড্রাগন রাজ্য। শখের চাষেই বদলে গেছে জীবনের হিসাব। ড্রাগন ফল বিক্রি করে বছরে আয় লাখ টাকা। চাঁদপুরের আবু হানিফ এখন স্বাবলম্বী কৃষি উদ্যোক্তা।
বয়স তাঁর ৬২, তবু থামেনি ছুটে চলা। ইউটিউবের ভিডিও দেখেই শুরু চাষের হাতেখড়ি। ২০২৪ সালে ছাদের বাগানে লাগান ড্রাগন গাছ। সঙ্গে বাড়ির আঙিনাতেও গড়ে তোলেন ফলের বাগান। সেই ছোট্ট উদ্যোগই এখন বড় সম্ভাবনার গল্প।
তবে হানিফের এই পথচলা ছিল না সহজ। সংসারের হাল ধরতে শুরু করেছিলেন দরজির কাজ। সচ্ছলতার আশায় ১৯৮৭ সালে পাড়ি জমান বাহরাইনে। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরেন ২০১২ সালে। কিন্তু ব্যবসাতেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সাফল্য।
এরপরই নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু। ইউটিউব দেখে শিখলেন ড্রাগন ফলের চাষাবাদ। বাড়ির ছাদে ব্যবহার করলেন ১,৪০০ বর্গফুট জায়গা। আঙিনার সাড়ে ছয় শতক জমিতেও লাগালেন গাছ। প্রথম বছরেই লাভের মুখ দেখে বাড়ে আত্মবিশ্বাস।
সেই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে এগিয়ে নেয় আরও দূর। ২০২৫ সালে লাভ ছাড়ায় এক লাখ টাকা। ২০২৬ সালেও আয় হয়েছে লাখ টাকার বেশি। বছরে তিন দফায় ফল ধরে গাছগুলোতে। এবার তাই চাষের পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ তাঁর।
মতলব দক্ষিণের পৈলপাড়ায় জমি নেন ইজারা। সেখানে ৪০ শতক জমিতে ড্রাগনের আবাদ। বাকি জমিতে চাষ করছেন আঙুর, পেঁপে, কলা। বাগানে ব্যবহার করেন জৈব সার, সীমিত রাসায়নিক সার। কীটনাশক ছাড়াই ফল উৎপাদনে রাখছেন বিশেষ নজর।
হানিফের বাগান এখন স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্র। নিজ উপজেলা ছাড়িয়ে ফল যাচ্ছে আশপাশের বাজারে। কৃষি কর্মকর্তার চোখেও তাঁর উদ্যোগ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আত্মীয়দেরও দেন ফল। শখের বাগানেই সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছেন ‘ড্রাগন হানিফ’।