তদবির ও প্রভাব খাটানোর সুযোগ বন্ধ করে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ঢাকার সাতটি ভূমি অফিসের নয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে লটারির মাধ্যমে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত লটারির আয়োজন করা হয়। লটারির ফল অনুযায়ী তাদের নতুন দায়িত্বের স্থান নির্ধারণ করা হয়।
এ কার্যক্রমের আওতায় ছিল সাভার ও ধামরাই উপজেলা ভূমি অফিস, আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল, উত্তরখান ভূমি অফিস, বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, কেরাণীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস এবং জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস।
লটারিতে বদলি হওয়া নয়জনের মধ্যে দুজন চেইনম্যান, তিনজন অফিস সহায়ক, একজন মালি, একজন অফিস সহকারী, একজন সার্টিফিকেট সহকারী এবং একজন প্রধান সহকারী রয়েছেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষকে সরাসরি বিভিন্ন সেবা নিতে হয়। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। আবার বদলির সময় তদবির ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগও থাকে। এ কারণে বদলি প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ রাখতে লটারির পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ভূমি অফিসের মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। কোনো ধরনের তদবির বা ব্যক্তিগত পছন্দকে প্রাধান্য না দিয়ে বদলি নিশ্চিত করতেই উন্মুক্ত লটারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলেন, নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও নিরপেক্ষভাবে জনগণকে সেবা দেবেন। এতে ভূমিসেবা গ্রহণকারীদের হয়রানি কমবে এবং সেবার মান বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের লটারির মাধ্যমে বদলি প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভূমি অফিসে অনিয়ম ও তদবিরের প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে।