মাতৃত্বের পর জীবনের অনেক কিছুই বদলে যায়। কাজ, অনুভূতি কিংবা প্রতিদিনের অভ্যাস—সবকিছুর মধ্যেই আসে নতুন পরিবর্তন। বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার জীবনেও মাতৃত্বের পর এমন পরিবর্তন এসেছে। সন্তান জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস ছেলেকে চোখের আড়াল করতে চাইতেন না তিনি। তবে কাজের প্রয়োজনে একসময় সন্তানকে বাড়িতে রেখে বাইরে যেতে হয় অভিনেত্রীকে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে পরিণীতি জানান, ছেলেকে রেখে প্রথমবার মুম্বাই যাওয়ার সময় বিমানে টানা তিন ঘণ্টা কেঁদেছিলেন তিনি। সেই যাত্রার অনেক কিছুই এখন আর তার মনে নেই। শুধু মনে আছে, পুরো পথজুড়ে কান্না থামাতে পারেননি।
পরিণীতির কথায়, বিমানবন্দরে কীভাবে পৌঁছেছিলেন, কীভাবে বিমানে উঠেছিলেন কিংবা মুম্বাইয়ে কীভাবে পৌঁছেছেন—এসব কিছুই মনে নেই তার। সেই সময় তার মনে হচ্ছিল, সন্তানকে রেখে হয়তো আর কখনো কাজ করতে পারবেন না।
সন্তানকে রেখে কাজে বের হওয়ার সময় মায়েদের মধ্যে যে অপরাধবোধ তৈরি হয়, পরিণীতির ক্ষেত্রেও তা ছিল প্রবল। তবে তার অনুভূতি শুধু প্রচলিত ‘মম গিল্ট’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ছেলেকে ছেড়ে কাজে যাওয়াটাই তখন তার কাছে এত কঠিন মনে হয়েছিল যে ভবিষ্যতে কাজ করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
অবশ্য সন্তানকে নিয়ে বাস্তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ ছিল না। পরিবারের সদস্যদের কাছেই নিরাপদে ছিল তার ছেলে। বরং পরিবারের পক্ষ থেকেই পরিণীতিকে আরও কিছুদিন বাইরে গিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। তারপরও নিজের ভেতরের অপরাধবোধ কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছে অভিনেত্রীর।
পরিণীতির মতে, মায়েদের এই অপরাধবোধ অনেক সময় শুধু মাতৃত্বের স্বাভাবিক অনুভূতি থেকে আসে না; এর সঙ্গে সামাজিক প্রত্যাশারও সম্পর্ক রয়েছে। সন্তানকে ঘিরে মায়েদের জন্য সমাজ যে নির্দিষ্ট ভূমিকা তৈরি করে দেয়, সেটিও অনেকের মনে চাপ ও অপরাধবোধ বাড়িয়ে দেয়।
কাজের প্রয়োজনে বাইরে বের হলে অনেক নারীই তাকে সন্তানের বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলেও জানান পরিণীতি। ‘আপনার বাচ্চা কোথায়?’—এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। অভিনেত্রী তখন জানান, তার সন্তান বাড়িতেই আছে।
পরিণীতির বিশ্বাস, একজন মা সন্তানকে ভালোবাসা ও যত্ন দেওয়ার পাশাপাশি নিজের পেশাগত জীবনও চালিয়ে যেতে পারেন। তাই কর্মজীবী মায়েদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি আরও স্বাভাবিক ও সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন।