বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগে দুই ব্যক্তি ও অংশগ্রহণকারীর বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তের পর সাবেক চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক মো. আব্দুল কায়ুম রাশেদ এবং সাবেক দলীয় কর্মকর্তা আমিন খানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালে তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিসিবির অভিযোগ অনুযায়ী, বিপিএলের একাদশ ও দ্বাদশ আসরকে ঘিরে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড, দুর্নীতির প্রস্তাব বা সংশ্লিষ্ট তথ্য গোপন, অ্যান্টি-করাপশন তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা বা বিলম্ব করার মতো বিষয় তদন্তে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি নানা অব্যবস্থাপনার কারণে বিপিএল বন্ধের ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। সে সময় বিসিবি প্রধানকেও পড়তে হয়েছিল নানামুখী প্রশ্নের মুখে। তবে তামিমের অবস্থান ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তিনি বারবারই জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি একটি স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত বিপিএল আয়োজন করতে চান। যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের স্বচ্ছতা এবং ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করেই মাঠে গড়াবে বিপিএল।

সাবেক চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক আব্দুল কায়ুম রাশেদের বিরুদ্ধে ম্যাচের ফল, অগ্রগতি বা কোনো দিককে অনিয়মের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা বা চুক্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার তথ্য যথাসময়ে প্রকাশ না করা, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিসিবি কর্তৃক আব্দুল কায়ুম রাশেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:

ধারা ২.১.১: ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা যেকোনো বিষয় পাতানো এবং অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা বা এর সঙ্গে জড়িত থাকা।

ধারা ২.৪.৪: ফিক্সিং বা অনৈতিক কাজের জন্য কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তা দেরি না করে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে (ডিএসিও) জানাতে ব্যর্থ হওয়া।

ধারা ২.৪.৬: উপযুক্ত কারণ ছাড়াই তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানো, যার মধ্যে প্রধান মোবাইল ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করা অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, দুর্বার রাজশাহীর সাবেক ম্যানেজার এবং চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক দলীয় কর্মকর্তা মো. আমিন খানের বিরুদ্ধেও রয়েছে প্রায় একই অভিযোগ। পাশাপাশি কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট যোগাযোগ বা তথ্য গোপন কিংবা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার চারটি ধারায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হলো:

ধারা ২.১.১: ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা যেকোনো বিষয় ফিক্সিং, অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা বা এর সঙ্গে জড়িত থাকা।

ধারা ২.১.৪: প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক বা অনৈতিক কাজে প্ররোচিত করা, প্রলোভন দেখানো বা উৎসাহিত করা।

ধারা ২.৪.৬: উপযুক্ত কারণ ছাড়াই দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তা (ডিএসিও)-এর তদন্তে এবং তথ্য দেওয়ার নির্দেশ পালনে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানো।

ধারা ২.৪.৭: তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় বা প্রমাণ হতে পারে এমন কোনো যোগাযোগ ও তথ্য লুকিয়ে রাখা বা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব করা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুই অংশগ্রহণকারীকে ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগের নোটিশ পাওয়ার পর নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য তারা ১৪ দিন সময় পাবেন। এরপর আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া এগোবে।