নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিকভাবে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের একটি পার্শ্ব বৈঠকে এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ‘জি-৭৭ ও উদীয়মান অংশীদারদের প্রযুক্তি সহায়তাপ্রসূত নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে’ বক্তব্য দেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে। দ্রুত তদন্ত ও বিচার, আইনি সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা, পুনর্বাসন, নিরাপদ আশ্রয় এবং মানসিক সহায়তার মতো বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু করা বিশেষ ‘পিংক বাস সার্ভিস’-এর কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে নারীদের সুরক্ষা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাশিশুদের সহায়তায় নেওয়া উদ্যোগের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন।
ডিজিটাল হয়রানি মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন ‘ঢাকা ডায়ালগ’ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধ, তদন্ত ও মোকাবিলায় স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে এ উদ্যোগের ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ যোগ দিতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ক্রোয়েশিয়া ও ইউএন উইমেন আয়োজিত বৈঠকে অনলাইন হয়রানি, মানহানি, পরিচয় জালিয়াতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারসহ নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে নতুন ধরনের ডিজিটাল হুমকি নিয়ে আলোচনা হয়।