রাজধানীর মিরপুর-১-এ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের ঘটনা দেশে ঘটলেও রাতের বেলায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ইসিবি চত্বরে ভাঙচুরের শিকার কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন এবি পার্টির এই নেতা।

ফুয়াদ বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চিকিৎসা ও টিকাদান সেবা দিয়ে আসছে। বিদেশি দাতা সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা কেবল স্থাপনার ক্ষতি নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার শামিল।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসংঘ সফরে ছিলেন, সে সময় রাজধানীতে ঐতিহ্যবাহী একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত উদ্বেগ জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দখলের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মী ও একজন নারী সংসদ সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন, কাউকে আগাম দায়ী করা উচিত নয়। তবে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করতে হবে।

হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন। তার অভিযোগ, সারা রাত ধরে ভাঙচুর ও লুটপাট চললেও ঘটনাস্থলের পাশে পুলিশ অবস্থান করেও তা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার দুই দিনের মধ্যে ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া আদাবরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়, মুগদায় জমি দখল এবং আশুলিয়ার একটি মাদ্রাসায় চাঁদার দাবিতে ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে।

এসব ঘটনা দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, নাগরিকদের জানমাল, সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান রক্ষায় রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে।

ফুয়াদ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা চালুর ব্যবস্থাও করতে হবে।

পরিদর্শনকালে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুল ওহাব মিনার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া ও আলতাফ হোসাইন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।