গত রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই রাতেই নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরবর্তীতে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
আদালতে হাজির ও রিমান্ড শুনানি:
মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমকে আদালতে হাজির করে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ৩টা ১২ মিনিটে কড়া নিরাপত্তায় (হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায়) তাদের আদালতের পঞ্চম তলার এজলাসে তোলা হয় এবং কাঠগড়ায় নেওয়ার পর নিরাপত্তা সামগ্রীগুলো খুলে দেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানিতে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরে সর্বোচ্চ মেয়াদের রিমান্ডের দাবি জানান। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
আদালতের আদেশ ও আসামির বক্তব্য:
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানি শেষে বিচারক এজলাস ত্যাগ করলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না, সে নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছে।" মরিয়মের আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।