বারবার স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে নদীভাঙন ও নদী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই পরিকল্পনা নেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। একই সঙ্গে দেশের নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার পৃথক উদ্যোগের বদলে সমন্বিত নীতিমালার আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) বিভিন্ন কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নদী ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার ফল কাজে লাগানোর পাশাপাশি পলি ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত ও ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কার্যকারিতা যাচাই এবং নদীর নাব্যতা ধরে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংকটপূর্ণ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনে নিয়ন্ত্রণ, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো এবং ব্যবহৃত পানি পুনর্ব্যবহারের নীতি অনুসরণের সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া ডিএনডি এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছে কমিটি। পাউবোর প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংস্থাটির পাঁচ হাজারের বেশি অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে বছরের শুরুতেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।