জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ১১ ওভারের মধ্যেই ৬ ওভার বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদ। যেখানে তিনটি উইকেট শিকারের পাশাপাশি দিয়েছেন দুটি মেডেন ওভারও। তবে উইকেট আর মেডেন ওভারকে ছাপিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর ফিটনেস।

ম্যাচে তখন সবে শেষ হয়েছে প্রথম পাওয়ার প্লে, চলছে দ্বিতীয় পাওয়ার প্লের খেলা। অথচ বাংলাদেশ দলের প্রথম ১১ ওভারের মধ্যেই নিজের প্রথম স্পেলে ৬ ওভার করে ফেলেছেন তাসকিন। ওয়ানডে ক্রিকেটে এত অল্প সময়ের মধ্যে একজন পেসারের এমন দীর্ঘ স্পেল সচরাচর দেখা যায় না। তবে টাইগারদের রঙিন জার্সিতে সেই সক্ষমতারই প্রমাণ দিয়েছেন এই পেসার।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০ ওভার বল করে মাত্র ৪৪ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করেছেন তাসকিন। এর মধ্যে প্রথম স্পেলেই তুলে নিয়েছেন প্রতিপক্ষের টপ অর্ডারের তিনটি উইকেট। পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভার বোলিং করে দিয়েছেন মাত্র ১৮ রান। যেখানে তিনটি উইকেটের পাশাপাশি জ্বলজ্বল করেছে দুটি মেডেন ওভার।

প্রথম পাওয়ার প্লের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবারও বোলিংয়ে ফেরেন তাসকিন। প্রথম স্পেলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন দ্বিতীয় স্পেলেও। ৩৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে দেন মাত্র ৪ রান। উইকেটের দেখা না পেলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ওপর চাপ ধরে রাখেন এই পেসার।

দ্বিতীয় স্পেলে বিরতি দিয়ে আবারও বোলিংয়ে ফেরেন তাসকিন। শেষ দিকে আর উইকেটের দেখা না পেলেও নিজের গতি ও বোলিংয়ের ধার দিয়ে চাপে রাখেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের। সব মিলিয়ে ১০ ওভারে ৪৪ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। তবে উইকেট শিকারের পাশাপাশি ম্যাচজুড়ে তাঁর বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা আর বারবার ফিরে এসে আক্রমণাত্মক বোলিং করার সক্ষমতাই ছিল চোখে পড়ার মতো।

একসময় চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাসকিনকে। তবে সময়ের সঙ্গে নিজেকে ফিরে পেয়ে এখন বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা তিনি। দীর্ঘ স্পেলে বোলিং করা, একের পর এক ওভার করে যাওয়া আর গতি ধরে রাখার সক্ষমতা—সব মিলিয়ে তাঁর ফিটনেস নতুন করে নজর কেড়েছে। প্রশ্ন তাই একটাই, তাসকিনের এই ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা কি আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে?