পাকিস্তানের আলোচিত নাটক ‘দার–ই–নাজাত’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে জারিয়াব ও আবু বকরের একটি দৃশ্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। নাটকটিতে জারিয়াব চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম।

নাটকের ১৪ ও ১৫তম পর্বে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায় জারিয়াবকে। দীর্ঘদিনের প্রেমিক ও শৈশবের বন্ধু জামিলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভুগতে থাকেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা তাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয় না।

একপর্যায়ে জারিয়াবের পাশে দাঁড়ান আবু বকর। তাঁর সহযোগিতার দৃশ্যটিই দর্শকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে জারিয়াবের একজন পুরুষের সহায়তার চেয়ে পেশাদার মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। আবার কারও মতে, একজন নারীর সংকট থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে নাটকটিতে পুরুষ চরিত্রের ভূমিকাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দর্শকদের এই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন দুরেফিশান সেলিম। গত রোববার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে অভিনেত্রী বলেন, ‘দার–ই–নাজাত’ নারীদের এমন কোনো বার্তা দিচ্ছে না যে কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসতে তাদের একজন পুরুষের প্রয়োজন। বরং নারী ও পুরুষের জন্য সমাজে থাকা ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ডকেই প্রশ্ন করছে নাটকটি।

দুরেফিশানের মতে, একজন পুরুষ ভুল করার পর অনুতপ্ত হয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পান। কিন্তু একজন নারীকে তাঁর অতীতের সিদ্ধান্ত ও ভুলের দায় অনেক বেশি সময় ধরে বহন করতে হয়। আর এই বৈষম্যই নাটকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।

জারিয়াব ও জামিলের গল্পেও সেই পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। ধর্মের পথে ফেরার পর জামিল জারিয়াবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পরে তিনি বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করার পথে এগিয়ে যান। অন্যদিকে জারিয়াব নিজের অতীত নিয়ে অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। ফলে নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়াও তাঁর জন্য সহজ হয় না।

দুরেফিশান আরও বলেন, কোনো চরিত্রের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে দর্শকের একমত হওয়া জরুরি নয়। বরং চরিত্রটির অনুভূতি ও পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষের জীবন ও সিদ্ধান্ত সব সময় শুধু ঠিক-ভুলের সরল হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ‘দার–ই–নাজাত’কে একজন নারীর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প হিসেবেও তুলে ধরেছেন দুরেফিশান। তাঁর শেয়ার করা পোস্টের বক্তব্য ছিল, কখনো কখনো নিজেকে খুঁজে পাওয়াটাই হয়ে উঠতে পারে সেই ভালোবাসার গল্প, যার প্রয়োজন একজন মানুষের সব সময় থাকে।

অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘দার–ই–নাজাত’কে শুধু হৃদয়ভাঙার পর একজন নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প হিসেবে দেখলে এর গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক বাদ পড়ে যায়। বরং নিজের ভুল, অতীত, সামাজিক প্রত্যাশা ও নতুন করে জীবন শুরু করার অধিকার—এসব প্রশ্নও নাটকটির গল্পে উঠে এসেছে।