জায়গাটা দেখলেই পরিচিত মনে হতে পারে। বিশাল সাদা প্রাসাদ, সামনে সারি সারি স্তম্ভ, চারপাশে সবুজের সমারোহ। হঠাৎ মনে হতে পারে, এ তো ‘এক্স-মেন’-এর সেই বিখ্যাত স্কুল! প্রফেসর চার্লস জেভিয়ারের একাডেমি, যেখানে আশ্রয় নিত বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী মিউট্যান্টরা।
পর্দার সেই ‘এক্স-মেনশন’-এর একটি অংশ আসলে কানাডার অন্টারিওর ওশাওয়া শহরের পার্কউড এস্টেট। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ব্রায়ান সিঙ্গারের ‘এক্স-মেন’ ছবিতে প্রফেসর জেভিয়ারের একাডেমির বাইরের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল এই ঐতিহাসিক স্থাপনায়। ফলে প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের প্রফেসর এক্স, হিউ জ্যাকম্যানের উলভারিন, হ্যালি বেরির স্টর্ম কিংবা ফ্যামকে জনসনের জিন গ্রের সঙ্গে পার্কউডের নামও জড়িয়ে গেছে সিনেমাপ্রেমীদের মনে।
তবে শুধু ‘এক্স-মেন’ নয়, অসংখ্য সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজে ভিন্ন ভিন্ন সময় ও স্থানের চরিত্রে হাজির হয়েছে এই বাড়ি। ফলে পার্কউডের সামনে দাঁড়ালে প্রশ্ন জাগতেই পারে—এই জায়গাটা আগে কোথায় যেন দেখেছি?
মনে পড়ে যায় ‘অয়োময়’
মঙ্গলবার দুপুরে পার্কউডে পৌঁছালে চারপাশের পরিবেশ ছিল বেশ শান্ত। কেউ হাঁটছেন, কেউ বসে সময় কাটাচ্ছেন, আবার এক প্রবীণকে দেখা গেল গভীর মনোযোগে বই পড়তে। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, এই নিরিবিলি পরিবেশেই নিয়মিত বড় বড় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনার শুটিং চলে।
সেদিনও পার্কউডে একটি শুটিং চলছিল। কীসের শুটিং, কারা এসেছেন—জানার চেষ্টা করেও অবশ্য কোনো তথ্য পাওয়া গেল না। শুটিং সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
পরে কথা হয় পার্কউড ন্যাশনাল হিস্টোরিক সাইটের কিউরেটর সামান্থা জর্জের সঙ্গে। ২৬ বছর ধরে পার্কউডে কাজ করছেন তিনি। কিউরেটরের দায়িত্বের পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনার সঙ্গে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সমন্বয়ের কাজও করেন।
সামান্থা জানান, দক্ষিণ অন্টারিওতে এখন পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার তুলনায় টেলিভিশন, স্ট্রিমিং সিরিজ ও ধারাবাহিক প্রযোজনার শুটিং বেশি হয়। ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও নানা ধরনের দৃশ্য তৈরির সুযোগ থাকায় পার্কউড নির্মাতাদের কাছে আকর্ষণীয়। এমনকি ‘স্টার ট্রেক’-এর একটি প্রযোজনায় এই জায়গাটিকেই ভিনগ্রহের একটি স্থানের রূপ দেওয়া হয়েছিল।
পার্কউডের বাড়িটির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনে পড়ে যায় বাংলাদেশের জনপ্রিয় নাটক ‘অয়োময়’-এর কথা। হুমায়ূন আহমেদের ওই নাটকের শুটিংয়ের পর ময়মনসিংহের শশীলজও দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছিল। একসময় শুধু নাটকের শুটিং লোকেশন দেখতেই সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন অনেকে।
পার্কউড ও শশীলজের ইতিহাস বা স্থাপত্য এক নয়। তবে সিনেমা কিংবা নাটক কীভাবে একটি স্থাপনাকে দর্শকের স্মৃতির অংশ করে দিতে পারে, সেই জায়গায় দুটির মধ্যে অদ্ভুত মিল রয়েছে। পর্দায় দেখা কোনো বাড়ির সামনে দাঁড়ালে সেটি তখন আর শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা থাকে না; গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে যায় তার পরিচয়ও।
‘এক্স-মেন’ ছাড়াও অসংখ্য সিনেমার শুটিং
পার্কউডে শুটিং হয়েছে অ্যাডাম স্যান্ডলারের ‘বিলি ম্যাডিসন’, অস্কারজয়ী ‘শিকাগো’ এবং হিলারি সোয়াঙ্ক অভিনীত ‘অ্যামেলিয়া’ ছবির। সামান্থা জর্জের তালিকায় রয়েছে ‘নাইটমেয়ার অ্যালি’, ‘রেডি অর নট’ ও ‘প্রিসিলা’র মতো সিনেমাও।
পার্কউডের আনুষ্ঠানিক তালিকায় আরও রয়েছে ‘দ্য টাক্সেডো’, ‘আন্ডারকভার ব্রাদার’, ‘চার্লি বার্টলেট’ ও ‘হলিউডল্যান্ড’-এর মতো সিনেমা।
ছোট পর্দা ও স্ট্রিমিংয়ের তালিকাও বেশ বড়। ‘দ্য বয়েজ’, ‘দ্য আমব্রেলা একাডেমি’, ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’, ‘হ্যানিবল’, ‘স্টার ট্রেক: স্ট্রেঞ্জ নিউ ওয়ার্ল্ডস’, ‘মারডক মিস্ট্রিজ’, ‘অ্যান উইথ অ্যান ই’, ‘মিসেস আমেরিকা’, ‘দ্য এক্সপ্যান্স’, ‘নিকিতা’, ‘শ্যাডোহান্টার্স’ ও ‘ওয়ার্কিন মমস’সহ বহু পরিচিত প্রযোজনার শুটিং হয়েছে এখানে।
জ্যাকব এলর্ডির জন্য সরাতে হয়েছিল ঝাড়বাতি
শুটিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তারকাদের অপ্রকাশিত তথ্য নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি সামান্থা। কারণ, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পার্কউডের গোপনীয়তার চুক্তি থাকে। তবে শুটিংয়ের কিছু মজার অভিজ্ঞতা তিনি জানিয়েছেন।
‘প্রিসিলা’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় পার্কউডের ডাইনিং রুমকে জার্মানির একটি বসার ঘর হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। সেখানে সমস্যা তৈরি করে প্রায় চার ফুট দীর্ঘ একটি মুরানো ঝাড়বাতি। সিনেমায় এলভিস প্রিসলির চরিত্রে অভিনয় করা জ্যাকব এলর্ডির উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি হওয়ায় দৃশ্যের প্রয়োজনে ঝাড়বাতিটি সরানোর প্রয়োজন পড়ে।
তবে ঐতিহাসিক স্থাপনার কোনো অংশ শুধু শুটিংয়ের সুবিধার জন্য সরানো হয় না। পার্কউডের নীতি অনুযায়ী, সংরক্ষণ বা সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেই কেবল কোনো স্থাপত্য উপাদান সরানো যায়।
শেষ পর্যন্ত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ঝাড়বাতিটি খোলার বৈদ্যুতিক কাজের পাশাপাশি এর সংরক্ষণ ও সংস্কারের খরচও বহন করে। এতে শুটিংয়ের প্রয়োজন মেটার পাশাপাশি পার্কউডেরও একটি পুরোনো ঝাড়বাতি সংস্কারের সুযোগ হয়।
সামান্থা জানান, সম্প্রতি অভিনেতা ভিন্স ভনের উচ্চতার কারণেও একটি প্রযোজনার শুটিংয়ের সময় ড্রয়িংরুমের দুটি চেক ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি সরাতে হয়েছিল। সেগুলোরও প্রয়োজনীয় সংরক্ষণকাজ করা হয়।
সিনেমার জন্য সচল হয় ১৯৩৪ সালের চুলা
২০১২ সালে ‘হেমলক গ্রোভ’ সিরিজের শুটিংয়ের সময়ও পার্কউডে এমন একটি ঘটনা ঘটে। এস্টেটের রান্নাঘরে থাকা ১৯৩৪ সালের একটি পুরোনো একমি চুলা শুটিংয়ে ব্যবহার করতে চেয়েছিল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
চুলাটি নিরাপদে ব্যবহার করতে এর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নতুন করে দেওয়া হয়, যাতে সেটি অন্টারিওর বৈদ্যুতিক নিরাপত্তাবিধি মেনে চলে। এতে শুটিংয়ের কাজ যেমন হয়েছে, তেমনি পার্কউডও পেয়েছে নিরাপদে ব্যবহারযোগ্য একটি ঐতিহাসিক চুলা।
এখন ঐতিহাসিক খাদ্যসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা দলটি সেই চুলায় পুরোনো দিনের খাবার ও রেসিপি নিয়ে গবেষণা ও উপস্থাপনার কাজ করে।
শুটিং ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ভারসাম্য
চলচ্চিত্রের শুটিং আর শতবর্ষী স্থাপনা সংরক্ষণের প্রয়োজন সব সময় এক নয়। শুটিংয়ের সময় তীব্র আলো, ভারী যন্ত্রপাতি এবং একসঙ্গে অনেক মানুষের উপস্থিতিতে ঘরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে যেতে পারে। ঐতিহাসিক স্থাপনা ও পুরোনো নিদর্শন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এগুলো বড় বিষয়।
তাই দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই সামান্থার কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর মতে, সঠিকভাবে সমন্বয় করা গেলে চলচ্চিত্র ও ঐতিহাসিক স্থাপনা—দুই পক্ষই লাভবান হতে পারে। ঝাড়বাতি সংস্কার কিংবা পুরোনো চুলা সচল হওয়ার ঘটনাগুলো তারই উদাহরণ।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করতে করতে এ বিষয়ে সামান্থার অভিজ্ঞতা এখন পার্কউডের বাইরেও কাজে লাগছে। চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ, ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা ও শুটিংয়ের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অন্য জাদুঘর ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানও তাঁর পরামর্শ নেয়।
শহরজুড়েই যেন শুটিংয়ের আয়োজন
পার্কউডের বাইরেও ওশাওয়ার সঙ্গে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনশিল্পের সম্পর্ক বেশ শক্তিশালী। টরন্টোর কেন্দ্র থেকে শহরটির দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। ওশাওয়া শহর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব চলচ্চিত্র দপ্তর রয়েছে, যারা শুটিংয়ের জায়গা খোঁজা, অনুমতি এবং স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করে। শহরটিতে শুটিংয়ের জন্য আলাদা কোনো অনুমতি ফিও নেই।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওশাওয়ায় ‘দ্য টেস্টামেন্টস’, ‘দ্য ওয়ে হোম’, ‘মারডক মিস্ট্রিজ’, ‘ক্রস’, ‘ম্যাটলক’, ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’, ‘দ্য বয়েজ’, ‘জ্যাক রিচার’, ‘স্টেশন ইলেভেন’, ‘শিটস ক্রিক’, ‘টাইটানস’, ‘দ্য আমব্রেলা একাডেমি’ ও ‘ডেজিগনেটেড সারভাইভার’-এর মতো প্রযোজনার শুটিং হয়েছে। স্টিফেন কিংয়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘ইট’ সিনেমারও শুটিং হয়েছে ওশাওয়ায়।
ডারহাম অঞ্চলের চলচ্চিত্র কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকায় শহুরে রাস্তা, পুরোনো প্রাসাদ, ছোট শহরের পরিবেশ, শিল্পাঞ্চল, পাথরের খনি থেকে শুরু করে গ্রামীণ দৃশ্য—সবই পাওয়া যায়। ফলে নির্মাতারা প্রয়োজন অনুযায়ী একই অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের ছোট শহর, শিল্পনগরী কিংবা ভিন্ন কোনো দেশের পরিবেশ হিসেবে পর্দায় তুলে ধরতে পারেন।
শুটিং ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব
পার্কউডে স্থানীয় বাসিন্দা ও সিনেমাপ্রেমী আশিক ইশতিয়াক হকের সঙ্গে কথা হয়। তাঁর মতে, বড় কোনো প্রযোজনা এলে ওশাওয়ার পরিবেশই বদলে যায়। শুটিং দেখতে স্থানীয় মানুষ যেমন ভিড় করেন, তেমনি এর সঙ্গে তৈরি হয় নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
একটি বড় শুটিং ইউনিটের সঙ্গে অভিনেতা-পরিচালকের পাশাপাশি ক্যাটারিং, পরিবহন, যন্ত্রপাতি, আবাসনসহ বিভিন্ন সেবার প্রয়োজন হয়। ফলে স্থানীয় অনেক প্রতিষ্ঠানও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়।
সরকারি হিসাবে, ২০২৪ সালে ডারহাম অঞ্চলে ৭১টি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনার কাজ হয়েছে। ৬০০টির বেশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান আবাসন, খাবার সরবরাহ, যন্ত্রপাতি ভাড়া ও পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
অন্টারিওর বিভিন্ন করসুবিধাও চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনাকে আকৃষ্ট করছে। তবে শুধু করসুবিধা নয়, টরন্টোর কাছাকাছি অবস্থান, বৈচিত্র্যময় শুটিং লোকেশন, দক্ষ জনবল, প্রয়োজনীয় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতাও ওশাওয়া ও ডারহাম অঞ্চলকে নির্মাতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
গাড়িশিল্পের ইতিহাস থেকে সিনেমার পর্দায়
পার্কউডের গল্প অবশ্য সিনেমা দিয়ে শুরু হয়নি। এর শিকড় কানাডার গাড়িশিল্পের ইতিহাসে।
এই এস্টেট ছিল কানাডার গাড়িশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব রবার্ট স্যামুয়েল ম্যাকলাফলিন ও তাঁর পরিবারের বাড়ি। পার্কউড কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনি জেনারেল মোটরস অব কানাডার প্রতিষ্ঠাতা এবং কানাডীয় গাড়িশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
ম্যাকলাফলিন পরিবারের গাড়ি তৈরির ইতিহাস অবশ্য শুরু হয়েছিল রবার্ট ম্যাকলাফলিন সিনিয়রের হাত ধরে। ১৮৬৭ সালে তিনি ঘোড়ায় টানা গাড়ি ও ওয়াগন তৈরি শুরু করেন। ব্যবসা বাড়তে থাকায় ১৮৭৬ সালে সেটি ওশাওয়ায় নিয়ে আসেন। পরে তাঁর ছেলে রবার্ট স্যামুয়েল ম্যাকলাফলিন ও ভাই জর্জ মোটরগাড়ি তৈরির দিকে এগিয়ে যান। ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ম্যাকলাফলিন মোটর কার কোম্পানি।
এই পরিবারের আবাস হিসেবেই ১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে নির্মিত হয় পার্কউড। প্রায় ১৫ হাজার বর্গফুটের বাড়িটিতে রয়েছে ৫৫টি কক্ষ। শত বছর পেরিয়েও এর স্থাপত্য, শিল্পকর্ম, বাগান ও ম্যাকলাফলিন পরিবারের ব্যবহৃত আসবাব সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে এটি কানাডার একটি জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান।
অর্থাৎ কানাডার গাড়িশিল্পের ইতিহাসের সঙ্গে যার শুরু, সময়ের সঙ্গে সেই পার্কউডই হয়ে উঠেছে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পরিচিত শুটিং লোকেশন। তবে শুটিং পার্কউডের মূল কাজ নয়। প্রযোজনা থেকে পাওয়া অর্থ ঐতিহাসিক এস্টেটটির সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণেও কাজে লাগে।
সিনেমার পর্দায় কখনো মিউট্যান্টদের স্কুল, কখনো জার্মানির বসার ঘর, কখনো ভিনগ্রহের কোনো এলাকা—গল্পের প্রয়োজনে বারবার বদলে যায় পার্কউডের পরিচয়। কিন্তু পর্দার আড়ালে এটি থেকে যায় শত বছরের ইতিহাস বয়ে চলা একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা।