১৯৬৯ সাল। তখনও বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে উঠতে পারেননি রেখা। কিশোরী বয়সেই অভিনেতা বিশ্বজিতের বিপরীতে ‘দো শিকারি’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ছবিটির শুটিংয়ের সময় একটি চুম্বনের দৃশ্য ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনা পরে দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল।
রেখার জীবনী ‘রেখা: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’তে লেখক ইয়াসার উসমান দাবি করেন, ওই দৃশ্য সম্পর্কে রেখাকে আগে থেকে জানানো হয়নি। ক্যামেরা চালু হওয়ার পর বিশ্বজিৎ তাঁকে চুম্বন করেন বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়। এতে অভিনেত্রী ভীষণ অস্বস্তি ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এত বছর পর সেই পুরোনো ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন বিশ্বজিৎ। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে ‘দো শিকারি’র সেই দৃশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তবে ১৯৬৯ সালের ওই ঘটনায় রেখার সম্মতি ছিল কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি অভিনেতা।
বিশ্বজিতের বক্তব্য, বর্তমান সময়ে সিনেমায় চুম্বন বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যকে আর আগের মতো বড় বিষয় হিসেবে দেখা হয় না। তাঁর ভাষায়, ‘আজকের সময়ে পর্দায় চুম্বন কিছুই না।’
বর্তমান সময়ের সিনেমায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের প্রসঙ্গও তোলেন বিশ্বজিৎ। এখনকার ছবিতে যেভাবে এসব দৃশ্য দেখানো হয়, তা দেখে তিনি নিজেই বিস্মিত হন বলে জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘অ্যানিম্যাল’ ছবির কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ‘দো শিকারি’র ঘটনার পর রেখার সঙ্গে তাঁর আর দেখা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্বজিৎ জানান, পরে তাঁরা আবার একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। ১৯৭৬ সালের ‘কহতে হ্যায় মুঝকো রাজা’ ছবিতে ফের একই পর্দায় দেখা যায় তাঁদের। অর্থাৎ পুরোনো ঘটনার প্রায় সাত বছর পর আবারও একসঙ্গে কাজ করেছিলেন দুই অভিনেতা।
রেখাকে ঘিরে ১৯৬৯ সালের এই ঘটনা নতুন করে আলোচনায় আসে তাঁর জীবনী প্রকাশের পর। বইটিতে দাবি করা হয়, শুটিংয়ের সময় হঠাৎ করেই ওই চুম্বনের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। তবে ঘটনাটি নিয়ে রেখা নিজে কখনো প্রকাশ্যে বিস্তারিত কথা বলেননি। ফলে এ বিষয়ে প্রচলিত বর্ণনার প্রধান সূত্র হিসেবে রয়ে গেছে জীবনী ও পরবর্তী সংবাদ প্রতিবেদন।