৪৯তম বিসিএসের (বিশেষ) চূড়ান্ত গেজেট থেকে ৫৭ জন প্রার্থীর নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বাদ পড়া প্রার্থীদের আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ডাকসুর নেতারা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে কর্মসূচি শুরু হয়। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ডাকসুর নেতারা। মিছিলটি কলাভবন ও মধুর ক্যানটিন ঘুরে ডাকসু ভবন প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা চাকরিতে দলীয়করণ বন্ধ এবং ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থীদের হয়রানি না করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৭ প্রার্থীর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ১২ অক্টোবরের মধ্যে তাঁদের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, চাকরিতে দলীয়করণ ও ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করছেন। তাঁর অভিযোগ, এনটিআরসিএ ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের হয়রানি করা হয়েছে।

বক্তব্যে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা মতের ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হলে তা তরুণ প্রজন্মের প্রতি বৈষম্য হবে। এ ধরনের নীতির বিরুদ্ধে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।

ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন খান বলেন, চাকরি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার বাইরে কোনো বিষয়কে বিবেচনায় নেওয়া উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, ভাইভায় নম্বর বাড়ানো, এনটিআরসিএর নিয়োগ বাতিলের উদ্যোগ এবং বিসিএসের ভেরিফিকেশনের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, দলীয় পরিচয়, রাজনৈতিক মত বা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হলে তার প্রতিবাদ করা হবে।

মেধায় প্রথম হয়েও গেজেটে নাম নেই

৪৯তম বিসিএসে সমাজকল্যাণ ক্যাডারে প্রথম হয়েও চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন বেলাল।

সমাবেশে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার পর ৪৯তম বিসিএসে সমাজকল্যাণ ক্যাডারে প্রথম হন। জুলাইয়ের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই, যার কারণে গেজেট থেকে বাদ পড়তে পারেন।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনের পরও তিনি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। যোগদানের নির্ধারিত সময়ের আগে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে গেজেটে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি। তাঁর গেজেটে নাম না থাকার বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছে।

‘১০ মাস অপেক্ষার পরও গেজেটে নাম নেই’

গেজেট থেকে বাদ পড়া আরেক প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রেজোয়ান আহমেদ তাহমিদও দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিয়োগ না পাওয়ার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ৪৯তম বিসিএসে সুপারিশ পাওয়ার পর প্রায় ১০ মাস অপেক্ষা করেছেন। ভেরিফিকেশনের সময় তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রেজোয়ান আহমেদের ভাষ্য, তিনি কখনো ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁর বাবা বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত—এ কারণে তাঁর ওপর বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের দায় চাপানো উচিত নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।

উল্লেখ্য, ৪৯তম বিসিএসের (বিশেষ) চূড়ান্ত ফলাফলে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে ৬১১ জনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে; ফলে ৫৭ জনের নাম সেখানে নেই। প্রজ্ঞাপনে তাঁদের বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।