জাকার্তার আবহাওয়া আর বুং কার্নো স্টেডিয়াম এখন আর বাংলাদেশের জন্য অচেনা নয়। ফিফা আসিয়ান কাপে এখানেই দুটি ম্যাচ খেলেছে জামাল ভূঁইয়ার দল। তবে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচেই অপেক্ষা করছে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে টমাস ডুলির দল। প্রথম দুই ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ এবং সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে ইতোমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ।
শক্তির বিচারে ইন্দোনেশিয়াও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান ১১৭, যেখানে মালয়েশিয়া ১৩৬ ও সিঙ্গাপুর ১৪৬। তার ওপর ঘরের মাঠে প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের সমর্থন পাবে স্বাগতিকরা। তবে অতীত পরিসংখ্যান কিছুটা আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে বাংলাদেশকে। দুই দলের তিন দেখায় একটি করে জয়, হার ও ড্র অর্থাৎ মাঠের লড়াইয়ে ব্যবধানটা সবসময় এতটা বড় ছিল না। বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি মূলত নিজেদের প্রমাণের শেষ সুযোগ। হারানোর কিছু না থাকলেও ইন্দোনেশিয়ার জন্য সমীকরণটা ভিন্ন। ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে টিকে থাকতে শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানের জয়ও প্রয়োজন তাদের। এই চাপটাকেই বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন কোচ থমাস ডুলি। তাঁর মতে, গোলের তাগিদে ইন্দোনেশিয়াকে আক্রমণাত্মক হতে হবে। আর সেই সুযোগে নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করতে চায় বাংলাদেশ।
তবে মাঠের বাইরেও কিছু আলোচনা আছে দলকে ঘিরে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ফারহান আলী ওয়াহিদকে নিয়ে কোচের অসন্তোষ এবং পরের ম্যাচে তাঁকে না খেলানো নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন। ডুলি অবশ্য কোনো মনোমালিন্যের বিষয় অস্বীকার করেছেন। এসব বিতর্ক পেছনে ফেলে শেষ ম্যাচে দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে খেলতে চান তিনি। কারণ সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, আর তার আগে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষের ম্যাচটিই বাংলাদেশের শেষ প্রস্তুতির সুযোগ।
প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল হজম করলেও বাংলাদেশ এখনো গোলের দেখা পায়নি। তাই আক্রমণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে শেষ ম্যাচে অন্তত একটি ইতিবাচক পারফরম্যান্সই হবে দলের বড় লক্ষ্য। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ার শক্তি-দুর্বলতা এবং তাদের দুই স্ট্রাইকারকে নিয়ে দল আলোচনা করেছে। ম্যাচের ফল যাই হোক, নিজেদের নিংড়ে দিয়ে সমর্থকদের একটি ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে চায় বাংলাদেশ।