মেসি নেই তবুও আর্জেন্টিনার সেই চেনা ধার, সেই গতি, সেই আক্রমণের ঝড় কোনো কিছুই যেন হারিয়ে যায়নি! লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় সামনে রেখে বলিভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। আর মেসিকে ছাড়া প্রথম ম্যাচেই যেন মাঠে প্রমাণ হয়ে গেল একজন কিংবদন্তি না থাকলেও এই দলটার লড়াই করার শক্তি এখনও অটুট।

কর্ডোবার মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ আর সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। আর ম্যাচের ১৮ মিনিটেই আসে প্রথম গোল। লাওতারো মার্তিনেজের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনার আক্রমণ।

প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটের দিকে এক্সেকিয়েল প্যালাসিওসের দুর্দান্ত পাস থেকে বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে বলিভিয়ার জালে বল পাঠান নিকো পাস। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। আর নিকো পাসের রাত তখনও শেষ হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধেও থামেনি গোলের ধারা। ফ্রি-কিক থেকে নিকো পাসের নিখুঁত বল, আর সেটি হেড করে জালে পাঠান ক্রিশ্চিয়ান ‘কুটি’ রোমেরো। অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেমে গোল করে যেন নিজের দায়িত্বের জবাবটাও দিয়ে দেন তিনি। ৩-০ করে আর্জেন্টিনা।

আর ম্যাচের শেষদিকে আসে আরও একটি বিশেষ মুহূর্ত। মাঠে নামার পর গোল করেছিলেন হোসে ম্যানুয়েল ‘ফ্লাকো’ লোপেজ, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। তবুও হাল ছাড়েননি তিনি। কিছুক্ষণ পর আবার সুযোগ আসে, আর এবার আর কোনো ভুল নয় ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে অর্থাৎ দ্বিতীয়ার্ধের ৪১ মিনিটে  গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন লোপেজ। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের সেই অনুভূতির কথাই জানান তরুণ লোপেজ। জাতীয় দলের হয়ে খেলা, আর তার ওপর গোল করা সবটাই তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো। কখনো ভাবেননি এমন দিন আসবে, তাই এই দিনটি তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন। লোপেজ আরও বলেন, ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন একজন সমর্থক। তখন ভাবেননি লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবেন। কিন্তু নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন, মেসির ক্যারিয়ারের শেষ সময়টা তাঁর সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরেছেন। এখন মেসির রেখে যাওয়া উচ্চতা ও শিক্ষা থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে সামনে এগোতে চান তিনি।
আর এভাবেই মেসিকে ছাড়া নতুন অধ্যায়ের প্রথম ম্যাচে ৪-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। মেসি ছিলেন না, কিন্তু আর্জেন্টিনার ফুটবল যেন বলেই দিল কিংবদন্তি একজনই হতে পারেন, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া দলটা থেমে থাকে না।