বিশ্বকাপ ফািনাল শেষে মেসিকে ইয়া।াালের জড়িয়ে ধরার কথা মনে আছে নিশ্চয়ই । স্পেনের শিরোপা জয়ের আনন্দ তখন চারদিকে। সেই উৎসবের মাঝেই লিওনেল মেসিকে খুঁজে নেন লামিন ইয়ামাল। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে জড়িয়ে ধরেন বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা। মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী হওয়ার পর থেকেই ফুটবলবিশ্বে শুরু হয় আলোচনা মেসিকে আলিঙ্গন করে ঠিক কী বলেছিলেন ইয়ামাল?

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ইয়ামাল নিজেই। স্পেনের ফরোয়ার্ড জানান, মেসিকে শুধু একটি কথাই বলেছিলেন তিনি ফুটবলের জন্য যা কিছু দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। মেসির প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা থেকেই সেদিন তাঁর কাছে ছুটে গিয়েছিলেন ইয়ামাল। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে মেসির সঙ্গে ছবি তুলে আলোচনায় আসার কোনো ইচ্ছা তাঁর ছিল না বলেও পরিষ্কার করেছেন ইয়ামাল। তাঁর ভাষায়, ছবিতে সুন্দর দেখানোর জন্য তিনি কিছু করেন না; বরং মেসিকে জড়িয়ে ধরার পুরো বিষয়টিই ছিল তাঁর ভেতর থেকে আসা একটি অনুভূতি।

মেসির সঙ্গে ইয়ামালের এই সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। বহু বছর আগের একটি ছবির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের গল্প। ২০০৮ সালে ইউনিসেফের একটি ক্যালেন্ডারের জন্য তোলা সেই ছবিতে দেখা যায়, ছোট্ট ইয়ামালকে গোসল করাচ্ছেন মেসি। তখন অবশ্য কেউ ভাবেনি, সেই শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠবে।

তবে সেই ছবির কারণে মেসির সঙ্গে নিজের তুলনা হোক শুরু থেকেই তা চাননি ইয়ামাল। তাঁর বাবা ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করার পর সেটি সরিয়ে নিতে বলেছিলেন তিনি। কারণ, মেসির সঙ্গে তুলনা শুরু হলে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করা কঠিন হয়ে যাবে এমনটাই আশঙ্কা ছিল তাঁর।

ইয়ামাল বলেন, তিনি মেসি হতে চাননি, নিজের পরিচয়ে ‘লামিনে’ হয়েই প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছেন। বাবাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন যেদিন তিনি নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবেন, সেদিন ছবিটি নিয়ে যা খুশি করা যাবে। মেসির ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করার সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই বাস্তব। আর ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর মেসিকে জড়িয়ে ধরা সেই মুহূর্ত যেন দুই প্রজন্মের ফুটবলারের গল্পকে এক ফ্রেমে এনে দিয়েছে।