পৃথিবীর স্বর্ণের হিসাব কি এবার একটু একটু করে বদলে যেতে যাচ্ছে? কারণ আফ্রিকার মাটির নিচে যে পরিমাণ সোনা রয়েছে, তার বড় একটি অংশই ছড়িয়ে আছে পশ্চিম আফ্রিকার এই বিশাল ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে। বিশেষ করে বিরিমিয়ান অঞ্চলের শিলাস্তরগুলো বহু গুরুত্বপূর্ণ স্বর্ণভাণ্ডারের জন্য পরিচিত। আর সেই স্বর্ণসমৃদ্ধ অঞ্চলেরই একটি দেশ বুরকিনা ফাসো।   অথচ আফ্রিকার মাটির নিচে বিপুল স্বর্ণভাণ্ডার থাকার পরও, দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পদের বড় অংশের প্রকৃত মূল্য নিয়ন্ত্রণ করেছে আফ্রিকার বাইরের শক্তি বিশেষ করে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক আর্থিক ও বাণিজ্যব্যবস্থা কিন্তু এতদিন বড় প্রশ্ন ছিল মাটির নিচে থাকা এই সম্পদের আসল মূল্যটা কার হাতে যাবে? 

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে এবার বড় এক পদক্ষেপ নিয়েছে বুরকিনা ফাসো। রাজধানী ওয়াগাদুগুতে চালু হয়েছে দেশটির প্রথম জাতীয় স্বর্ণ শোধনাগার রাফিনর-বিএফ। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উদ্বোধন হওয়া এই স্থাপনা তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে ১১ বিলিয়নেরও বেশি সিএফএ ফ্রাঁ, অর্থাৎ প্রায় ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো এর ক্ষমতা। প্রথম ধাপে এই শোধনাগার বছরে সর্বোচ্চ ১৬৪ টন স্বর্ণ পরিশোধন করতে পারবে। আর ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৫১৫ টনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ, শুধু মাটি থেকে সোনা তুলে বিদেশে পাঠানো নয় সেই সোনাকে দেশের ভেতরেই প্রক্রিয়াজাত করে তার বাড়তি মূল্য নিজেদের অর্থনীতিতে ধরে রাখার চেষ্টা করছে দেশটি।

আর এখানেই বিষয়টি শুধু একটি কারখানার মধ্যে আটকে থাকছে না। কারণ বুরকিনা ফাসো গত বছর প্রায় ৯৪ টন স্বর্ণ উৎপাদন করেছে। ফলে ১৬৪ টন শোধনক্ষমতার প্রথম ধাপই দেশটির বর্তমান উৎপাদনের তুলনায় বড় একটি সক্ষমতা তৈরি করছে। এর প্রভাব যদি ভবিষ্যতে আফ্রিকার অন্য স্বর্ণ উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে আফ্রিকা কি শুধু স্বর্ণের খনি হিসেবেই থাকবে, নাকি স্বর্ণ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের কেন্দ্র হিসেবেও নিজেদের জায়গা তৈরি করবে?

আর তখন বদলাতে পারে স্বর্ণের পুরো সরবরাহব্যবস্থার হিসাব।  আফ্রিকার দেশগুলো যদি নিজেদের স্বর্ণ দেশের ভেতরেই পরিশোধন ও মূল্য সংযোজন করতে শুরু করে, তাহলে বিশ্ব স্বর্ণবাজারে আফ্রিকার গুরুত্ব যে আরও বাড়তে পারে, সেই সম্ভাবনাটা এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়। কারণ এবার আফ্রিকার মাটির নিচের সোনা শুধু তোলা নয় সেই সোনার মূল্য কতটা দেশের ভেতরে রাখা যায়, শুরু হয়েছে সেই লড়াই।