দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে ককপিটের অভ্যন্তরে প্রধান পাইলটের ওপর হামলার রোমহর্ষক ঘটনায় গুরুতর আহত ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুবাইয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে তার প্রাথমিক চিকিৎসা ও সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ৩৩ বছর বয়সী এই ভারতীয় পাইলট বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ চালনায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এবং ২০২২ সাল থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই অসামান্য সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা এভিয়েশন সেক্টরে বড় ধরনের বিপর্যয় রোধ করেছে।

জানা গেছে, ফ্লাইটটিকে মাঝআকাশে ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত করার অসৎ উদ্দেশ্যে সহকারী পাইলট তার সহকর্মী ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। তবে আশঙ্কাজনক ও রক্তাক্ত অবস্থায় থেকেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার নিজের সর্বশক্তি দিয়ে ককপিটের লক খুলে দিতে সক্ষম হন।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, হামলার পরপরই বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। ককপিটে আকস্মিক এই হামলায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলেও, গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছার নিজের রক্তাক্ত হাত দিয়েই ককপিটের দরজা আনলক করেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানে থাকা ক্রু ও যাত্রীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারী সহকারী পাইলটকে কাবু করে ফেলেন। সৌভাগ্যবশত, ওই ফ্লাইটে যাত্রী হিসেবে অন্য এক জোড়া অফ-ডিউটি পাইলট উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করাতে সক্ষম হন।

বিমানটিতে থাকা মোট ১৭৪ জন যাত্রীর মধ্যে ১৬৬ জনই ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক। সৌভাগ্যবশত, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যাত্রীরা সবাই অলৌকিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অদম্য লড়াই চালিয়ে ১৭৪টি প্রাণ বাঁচানোর জন্য বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার।