দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার ও ফরাসি প্রযুক্তির আধুনিক রাডার ব্যবস্থা। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি এর মাধ্যমে দেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিদেশি উড়োজাহাজ থেকে ওভার ফ্লাইং চার্জ আদায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ৬ মাসেই এ খাত থেকে রাজস্ব আয় অর্জিত হয়েছে ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা পূর্বের তুলনায় প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ বেশি।

প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা ও খরচের দ্রুত উসুল এভিয়েশন খাতের এই সাফল্য নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এটিসি সদস্য এয়ার কমডোর মো. নুর-ই-আলম জানান, রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধির হার প্রতি বছরই ৬ থেকে ৮ শতাংশ হারে বাড়ছে। তিনি বলেন, “২০২৫ ও ২০২৬ সালের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, আগে ওভার ফ্লাইং বাবদ প্রতি মাসে যেখানে ৬০ থেকে ৬১ কোটি টাকা আসত, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে ৬৯ থেকে৭১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।”

ফ্রান্সের বিখ্যাত থেলাস (Thales) কোম্পানির এই রাডার ও আধুনিক সরঞ্জাম বসাতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছিল ৯৪২ কোটি টাকা। কর্মকর্তা ও হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান হারে রাজস্ব আদায় বজায় থাকলে আগামী মাত্র ১৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে নতুন রাডার স্থাপনের সম্পূর্ণ খরচ তুলে আনা সম্ভব হবে।

বঙ্গোপসাগরে শতভাগ নজরদারি ও রাজস্বের সম্ভাবনা নতুন ফরাসি রাডার ও আধুনিক এটিসি টাওয়ার চালুর ফলে ঢাকা থেকে প্রায় ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত আকাশসীমা এখন নিখুঁত নজরদারির আওতায় এসেছে। চট্টগ্রাম রাডার ইন্টিগ্রেটেড হওয়ার কারণে বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর এলাকার বিশাল জলসীমায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাডার কাভারেজ বহুদূর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক রুটগুলো থেকেও শতভাগ রাজস্ব আদায় সুনিশ্চিত হচ্ছে।

এয়ার কমডোর মো. নুর-ই-আলম আরও যোগ করেন, “সামনের দিনগুলোতে ট্রাফিকের ব্যবধান দক্ষতার সাথে বজায় রেখে দূরত্বের ভিত্তিতে বেশি সংখ্যক ফ্লাইটকে আকাশপথের জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে বর্তমানের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি ট্রাফিক পরিচালনা করে রাজস্ব আয় কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব।”