ঝালকাঠির ভিমরুলীর ভাসমান হাটে এখন চোখে পড়ার মতো আমড়ার সমারোহ। নৌকায় নৌকায় সাজানো টাটকা আমড়া, আর ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যস্ততায় মুখর পুরো হাট। মৌসুমি এই ফলের ভালো ফলন আর বাড়তি চাহিদায় জমে উঠেছে জেলার আমড়ার বাজার। আর সেই সঙ্গে বাড়ছে কৃষকদের আশাবাদও।

চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি ঝালকাঠিতে আমড়ার আবাদও ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার চার উপজেলায় প্রায় ৬০৫ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ হয়েছে। উৎপাদন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৫৯০ মেট্রিক টনে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি টাকা। দুই বছর আগে ৬০২ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৭০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, সামান্য জমি বাড়লেও উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

উৎপাদনের এই চিত্রের পেছনে রয়েছে সারাদেশে বরিশাল অঞ্চলের আমড়ার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে ঝালকাঠির আমড়ার বড় একটি অংশ যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন হাটে চলে বেচাকেনা, তবে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা দেখা যায় ভিমরুলীর ভাসমান বাজারে। দেশের নানা জায়গা থেকে আসা পাইকাররা এখান থেকেই সংগ্রহ করছেন মৌসুমি এই ফল।

আর বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় আমড়ার দামও কৃষকদের স্বস্তি দিচ্ছে। ফলের আকার ও রঙের ওপর নির্ভর করে প্রতি মণ আমড়া বিক্রি হচ্ছে প্রায় এক হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। ভালো ফলনের সঙ্গে এমন বাজারদর মিলিয়ে অনেক চাষিই এবার মৌসুম শেষে ভালো আয় করার প্রত্যাশায় রয়েছেন। তাদের সেই প্রত্যাশার বাস্তব উদাহরণও মিলছে স্থানীয় বাগানগুলোতে।

যেমন চাষি অনিমেষ হালদার এবার ছয় বিঘা জমিতে আমড়ার আবাদ করেছেন। তার বাগানে ফলন হয়েছে ভালো, আর প্রতিটি গাছ থেকেই কয়েক হাজার টাকার আমড়া বিক্রির আশা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে ছয় বিঘা জমি থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা এই চাষির। শুধু অনিমেষ নন, আমড়ার লাভজনক চাষ দেখে অন্য ফসলের জায়গাতেও অনেকেই এখন এই ফলের দিকে ঝুঁকছেন।

কারণ, বিকল্প ফসলের তুলনায় আমড়ায় শ্রম ও পরিচর্যার চাপ তুলনামূলক কম বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পেয়ারা চাষে বাড়তি শ্রম, রোগবালাই ও উৎপাদন খরচের কারণে কাঙ্ক্ষিত লাভ না থাকলেও আমড়ার ক্ষেত্রে পরিপক্ব ফল একসঙ্গে সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। ফলে শ্রমিক খরচও কমে আসে। আর এই সুবিধাই কৃষকদের কাছে আমড়াকে করে তুলছে আরও আকর্ষণীয়। তবে শুধু চাষিরাই নন, লাভের হিসাব করছেন পাইকাররাও।

স্বরূপকাঠির পাইকারদের একজন জানান, ঝালকাঠি থেকে আমড়া কিনে ঢাকায় পাঠিয়ে প্রতি মণে প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত ব্যবধান পাওয়া যায়। শ্রমিক, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পরও কিছুটা লাভ থাকে। কৃষি বিভাগও বলছে, উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় ঝালকাঠিতে প্রতিবছর আমড়ার আবাদ বাড়ছে। রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করা হচ্ছে। ফলে একসময় মৌসুমি ফল হিসেবে পরিচিত আমড়াই এখন ঝালকাঠির কৃষকদের জন্য হয়ে উঠছে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল।