আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই অবিশ্বাস্য লড়াই, এক পায়ে ভর করে ইতিহাস গড়ে দেওয়া সেই মহাকাব্যিক ইনিংসের নায়ক গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবার বিদায় জানালেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে। বিদায়বেলায় ফিরে দেখা সেই দৃশ্য, সেই হার না মানা লড়াই, যাঁকে আর কখনো অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে দেখা যাবে না।  

২০২৩ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৯১ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তখন একাই যেন গল্পটা পাল্টে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। একের পর এক উইকেট হারানোর চাপ, পায়ের অসহ্য যন্ত্রণা, ক্র্যাম্পের কারণে দৌড়ানোর সামর্থ্যও ছিল না তখন, তবুও থেমে থাকেননি তিনি। শরীর হার মানতে চাইলেও হার মানেনি তাঁর লড়াকু মানসিকতা। 

এরপর যা ঘটেছিল, তা যেন ক্রিকেটের কোনো রূপকথা। ১২৮ বলে অপরাজিত ২০১ রান, ব্যাট থেকে এসেছে ২১টি চার ও ১০টি ছক্কা। প্যাট কামিন্সকে সঙ্গে নিয়ে অষ্টম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ২০২ রানের জুটি গড়ে প্রায় নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে এনে দিয়েছিলেন অবিশ্বাস্য এক জয়। এমন ইনিংস শুধু দলকে জেতায় না, একজন ক্রিকেটারকে অমর করে রাখে তার ভক্তদের মাঝে।

তবে ম্যাক্সওয়েলের মাহাত্ম্য কেবল আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই ইনিংসেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০১৫ ও ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। ওয়ানডেতে বিধ্বংসী ব্যাটিং, টি-টোয়েন্টিতে অবিশ্বাস্য সব শট আর মাঠে দুর্দান্ত ফিল্ডিং - ম্যাচের চিত্রনাট্য এক মুহূর্তে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল তাঁর। 

অবশেষে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক পথচলার ইতি টানলেন অস্ট্রেলিয়ার এই বিগ শো। ওয়ানডে ক্রিকেটকে আগেই বিদায় জানিয়েছিলেন, এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাকি অধ্যায় থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। যদিও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁকে দেখা যাবে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে আর দেখা যাবে না সেই চেনা ৩২ নম্বরের বিধ্বংসী রূপ। তাঁর বিদায়ে অস্ট্রেলিয়া হারাল একজন ম্যাচ উইনার, আর ক্রিকেট বিশ্ব হারাল এক অনন্য বিনোদনদাতাকে। 

কিছু বিদায় মেনে নেওয়া কঠিন, কারণ বিদায়ের সঙ্গে হারিয়ে যায় কিছু অবিশ্বাস্য মুহূর্তের পুনরাবৃত্তির অপেক্ষাও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই এক পায়ে দাঁড়িয়ে লড়াই, অসহ্য যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে ব্যাট হাতে একের পর এক ছক্কা, আর শেষ পর্যন্ত ডাবল সেঞ্চুরিতে ম্যাচ জেতানো - এমন দৃশ্য আর কখনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেখা যাবে না। কিন্তু ক্রিকেটের ইতিহাসে আপনার নাম থেকে যাবে এক পায়ে দাঁড়িয়ে লেখা এক মহাকাব্যের সঙ্গে। বিদায় বিগ শো, আপনার সেই জাদু আর সেই লড়াই - ক্রিকেটপ্রেমীরা কোনোদিন ভুলবে না।