ব্যাট হাতে একের পর এক ছক্কার ঝড়, শেষ বল পর্যন্ত লড়াই, তবুও জয়ের বন্দরে পৌঁছানো হলো না সাইফের। একাই জনকপুর বোল্টসকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন সাইফ। কিন্তু শেষ বলে এসে থেমে গেল সেই লড়াই। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ছিল দলকে জেতানোর চেষ্টা, অথচ আন্দ্রে রাসেলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হলো সাইফকে। শেষ দৃশ্যটা এতটাই হতাশার যে মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার। 

জনকপুর বোল্টসের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। একের পর এক বড় শটে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে এলোমেলো করে দিয়েছেন। ব্যক্তিগত অর্ধশতকও পূর্ণ করেছেন ছক্কা হাঁকিয়ে। কিন্তু ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়েও তখন বড় হয়ে উঠেছিল দলের জয়, আর সেই লক্ষ্যেই ব্যাট চালিয়ে গেছেন সাইফ। 

তবে শেষ ওভারে এসে জমে ওঠে আসল রোমাঞ্চ। জনকপুরের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩ রান, আর বল হাতে অভিজ্ঞ আন্দ্রে রাসেল। চাপের মুহূর্তে রাসেলের অভিজ্ঞতা আর সাইফের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের লড়াই যেন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের অপেক্ষায়। প্রতিটি বলের সঙ্গে বাড়ছিল উত্তেজনা, শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় শেষ বলের সমীকরণে। 

শেষ বলে জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ৩ রান। স্ট্রাইক প্রান্তে সাইফ, সামনে রাসেল। এক ছক্কাতেই ম্যাচ জেতানোর সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। কিন্তু এবার আর ব্যাটের সঙ্গে হলো না হিসাবের মিল। বড় শট খেলতে গিয়ে রাসেলের বলে ক্যাচ তুলে দিলেন সাইফ। মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল জনকপুরের জয়ের স্বপ্ন, আর দুই রানের ব্যবধানে হার নিশ্চিত হলো দলটির। 

শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে সতীর্থদের জয়ের স্বপ্ন দেখানো সাইফের বিদায়টা তাই ছিল ভীষণ যন্ত্রণার। ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার পর মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন তিনি। যে ব্যাটে এতক্ষণ ছক্কার পর ছক্কা এসেছে, সেই ব্যাটই শেষ মুহূর্তে এনে দিল হতাশা। নিজের দুর্দান্ত ইনিংসের পরও দলকে জেতাতে না পারার আক্ষেপ যেন মুহূর্তেই ছাপিয়ে গেল ব্যক্তিগত সব অর্জনকে। 

তবে এই হার সাইফের ব্যাটিংয়ের মাহাত্ম্য একটুও কমাতে পারবে না। বরং নেপাল প্রিমিয়ার লিগে তাঁর ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য নতুন করে আশার গল্প হয়ে উঠছে। দিন শেষে স্কোরবোর্ডে জনকপুরের হার, কিন্তু সাইফের ব্যাটিংয়ে লেখা রইল এক দুর্দান্ত লড়াইয়ের গল্প।