সমীকরণের মারপ্যাঁচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে সমীকরণ তো দূর ছাই, ত্রিদেশীয় সিরিজে কোনো জয়ই পাওয়া হলো না টাইগারদের। ২০১৯ সালের পর ৭ বছরের ট্রফি খরা কাটিয়ে বুকভরা আশা নিয়ে যে টাইগাররা উড়াল দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে, সেখানে কোনো জয় ছাড়াই আসর শেষ করতে হলো তাওহীদ হৃদয়ের দলকে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজের আসর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে শুরুতেই আফ্রিকার দেশটির বিপক্ষে হেরে ব্যাকফুটে পড়ে যায় টাইগাররা। আসরের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান জিম্বাবুয়েকে বড় ব্যবধানে হারালে সমীকরণের বাধায় পড়ে বাংলাদেশের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন। শর্ত ছিল, ফাইনাল খেলতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুধু জয়ই নয়, পেতে হবে কঠিন কিছু শর্ত পূরণ করার সাপেক্ষে। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করলে রহমত শাহর দলকে হারাতে হবে ৪১ রানে। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করলে জিততে হবে ৪১ ওভারের আগে। সহজ পথ হিসেবে প্রথম সমীকরণকেই বেছে নেয় কোচ ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।
টসে জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। লক্ষ্য ছিল প্রতিপক্ষকে বড় টার্গেট দিয়ে সহজ জয় তুলে নেওয়া। তবে বল হাতে আগ্রাসী আফগানিস্তানের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারেনি টাইগার টপ অর্ডার ব্যাটাররা। মাত্র ২৮ রানেই হারিয়ে ফেলে টপ অর্ডারের ৪টি উইকেট। তবে দলের ত্রাতা হিসেবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করে গেছেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। সাইফ হাফ সেঞ্চুরি করতে না পারলেও নিজের হাফ সেঞ্চুরি ঠিকই তুলে নিয়েছেন ইমন। তবে দলীয় ১৫৬ রানে ইমন আউট হলে মাত্র ১৬০ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
১৬১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে এদিন শুরু থেকেই বেশ দেখেশুনে খেলতে থাকে আফগানিস্তান। প্রতিপক্ষের দুই ওপেনার বিধ্বংসী হয়ে ওঠার আগেই আফগান শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন পেসার তাসকিন আহমেদ। বোল্ড আউট করেন প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটার রহমানুল্লাহ গুরবাজকে।
গুরবাজ আউট হলে সিদ্দিকুল্লাহ আতালকে সাথে নিয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগোতে থাকেন ইব্রাহিম জাদরান। তবে তারা দুজনে উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই আবারো আফগান শিবিরে আঘাত হানেন পেসার তাসকিন আহমেদ। এবার তার শিকার জিম্বাবুয়ে ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সিদ্দিকুল্লাহ। দলীয় ৩৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে দল যখন বিপাকে, ঠিক সেসময় আফগানিস্তান দলের হাল ধরেন অধিনায়ক রহমত শাহ। রহমত ও ইব্রাহিম মিলে গড়ে তোলেন ৫৬ রানের জুটি। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে বিধ্বংসী হয়ে ওঠার আগেই ইব্রাহিমকে ফাঁদে ফেলেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। নাজমুল হোসেন শান্তর কাছে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে তার উইলো থেকে আসে ৩৪ রান।
ইব্রাহিম আউট হলে তখন ফাইনাল খেলার স্বপ্ন টিকে থাকে বাংলাদেশের। কারণ আফগানিস্তানকে ১১৮ রানের আগে অলআউট করতে পারলেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলতে পারবে টাইগাররা। তবে ৩০ ওভারের আগেই সেই রান আফগানিস্তান টপকে গেলে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় বাংলাদেশের। শেষ দিকে টাইগার পেসাররা একের পর এক প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও হার দিয়েই শেষ হয় টাইগারদের ত্রিদেশীয় সিরিজের যাত্রা।
ট্রফি জয়ের স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশের যাত্রা শেষ হলো হারের লজ্জায়
মন্তব্য
প্রথম মন্তব্যটি করুন।