নেপালের মাঠে আজ একই ম্যাচে বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটারের উপস্থিতি। একদিকে সাকিব আল হাসান ও শেখ মেহেদী হাসান, অন্যদিকে শামীম হোসেন পাটোয়ারী। তবে মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসিটা হেসেছে শামীমের দল লুম্বিনি লায়ন্স। সাকিব-মেহেদির দলকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে লুম্বিনি। 

ম্যাচে বল হাতে সাকিবের শুরুটা ছিল বেশ নিয়ন্ত্রিত। নিজের নির্ধারিত দুই ওভার বল করে মাত্র ৬ রান খরচ করেন এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। এর মধ্যে সাতটি বলেই রান নিতে পারেননি প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা। অর্থাৎ রান আটকে রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর ছিলেন সাকিব। তবে আঁটসাঁট বোলিংয়ের পরও কোনো উইকেটের দেখা পাননি তিনি। 

অন্যদিকে বল হাতে সুবিধা করতে পারেননি শেখ মেহেদী। লুম্বিনির ব্যাটারদের বিপক্ষে উইকেটশূন্য থাকেন এই অফস্পিনার। শুধু তাই নয়, সাকিবের তুলনায় বেশি রান খরচ করায় বোলিংয়েও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি মেহেদী। ফলে দুই বাংলাদেশি স্পিনারের কাছ থেকে বড় কোনো সাফল্য না পেয়েই ম্যাচ শেষ করতে হয় তাদের দলকে। 

তবে সাকিব-মেহেদির বোলিংয়ের বিপরীতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায় লুম্বিনি লায়ন্স। ব্যাটিং-এর শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে শামীমের দল। দুই বাংলাদেশি স্পিনারকে সামলে রান তোলার ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত মাত্র দুই উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা। তুলে নেয় ৮ উইকেটের দাপুটে জয়। 

অবশ্য দলের এমন বড় জয়ের ম্যাচে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পাননি শামীম হোসেন পাটোয়ারী। দলের জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তাড়া করতে গিয়ে তার ব্যাটিংয়ে নামারই প্রয়োজন হয়নি। ফলে ব্যাট হাতে অবদান না থাকলেও সতীর্থদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জয় উদ্‌যাপনের সুযোগ পেয়েছেন এই টাইগার ক্রিকেটার। 

সব মিলিয়ে ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটারের জন্য তিন রকম অভিজ্ঞতার। সাকিবের নিয়ন্ত্রিত বোলিং, মেহেদীর উইকেটশূন্য দিন আর শামীমের দলের দাপুটে জয় - সব মিলিয়ে আলোচনায় নেপালের এই লড়াই। ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি কিছু করতে না পারলেও দিনশেষে জয়টা ঠিকই নিজের দলের করে নিয়েছেন শামীম।